দুই ঘন্টায় চুরি যাওয়া স্কুটি উদ্ধার, গ্রেফতার চার
আগরতলা, ১৭ সেপ্টেম্বর: সাত সকালে রাজধানী আগরতলায় মহারাজগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে চুরি যাওয়া একটি স্কুটি মাত্র দুই ঘন্টার মধ্যে উদ্ধার করল পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশ। দ্রুত তদন্তে নেমে চুরি যাওয়া স্কুটিটি উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে বুধবার রাতে পৃথক অভিযানে ২৩০ বোতল বিলিতি মদসহ আরও দুই নেশা কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়াও চন্দ্রপুর এলাকা থেকে চুরি যাওয়া তিনটি জলের মোটর উদ্ধার করা হয়েছে। একই দিনে একাধিক অভিযানে সাফল্য পেয়েছে পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সাত সকালে মহারাজগঞ্জ বাজারের নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তির সামনে থেকে একটি স্কুটি চুরি হয়। স্কুটিটির নম্বর টিআর০১এএল৯৯৯৪। স্কুটির মালিক উদয়পুরের বাসিন্দা বিমল পোদ্দার। বাজার এলাকা থেকে স্কুটি চুরি যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গেই মহারাজগঞ্জ বাজার ফাঁড়ি ও পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশ তদন্তে নামে।
চুরি যাওয়া স্কুটির সন্ধানে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে স্কুটি নিয়ে চোরেরা কোন পথে গিয়েছে, সেই গতিপথ চিহ্নিত করার চেষ্টা করে পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরে আর কে নগর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই চুরি যাওয়া স্কুটিটি উদ্ধার করার পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এদিন পূর্ব আগরতলা থানার ওসি কৃষ্ণধন সরকার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত শুরু করায় চুরি যাওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই স্কুটিটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ধৃত দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চুরি সংক্রান্ত আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, বুধবার রাতেও পৃথক অভিযানে সাফল্য পেয়েছে পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশ। অভিযান চালিয়ে ২৩০ বোতল বিলেতি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মদের আনুমানিক বাজারমূল্য এক লক্ষ টাকা বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই ঘটনায় নেশা কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। মদ কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কোথায় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এছাড়াও বুধবার চন্দ্রপুর এলাকা থেকে চুরি যাওয়া তিনটি জলের মোটর উদ্ধার করেছে পুলিশ। মোটরগুলি কীভাবে চুরি হয়েছিল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্কুটি চুরির ঘটনায় গ্রেফতার দুই অভিযুক্ত এবং বিলেতি মদ উদ্ধারের ঘটনায় আটক দুইজনসহ মোট চারজনকে বৃহস্পতিবার পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চুরি ও অবৈধ মদ কারবারের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
