রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রের উন্নয়নে নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর বৈঠক
আগরতলা, ৯ জুন।। রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মনের নেতৃত্বে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের এক প্রতিনিধিদল আজ নয়াদিল্লির কর্তব্যভবনে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং শিক্ষা মন্ত্রকের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে ত্রিপুরায় উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রের উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণ সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠককালে প্রতিনিধিদলটি রাজ্যে সুষ্ঠু শিক্ষাগত প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনা এবং মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মহারাজা বীর বিক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নব প্রতিষ্ঠিত সরকারি সাধারণ ডিগ্রি কলেজগুলির অনুমোদন বা ‘অ্যাফিলিয়েশন’ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। এছাড়া, প্রতিনিধিদলটি প্রযোজ্য নির্দেশিকা ও বিধিবদ্ধ নিয়ম অনুযায়ী ‘রাজ্য উচ্চশিক্ষা পর্ষদ’-এর চেয়ারম্যান নিয়োগের জন্য গঠিত ‘অনুসন্ধান কমিটি’ বা ‘সার্চ কমিটি’-তে শিক্ষা মন্ত্রকের একজন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানায়।
আইআইটি (IIT) খড়গপুরের সহযোগিতায় সরকারি ডিগ্রি কলেজগুলিতে দক্ষতাভিত্তিক ও বৃত্তিমূলক পাঠ্যক্রম চালু ও সম্প্রসারণের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা করা হয়। ‘জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০’-এর লক্ষ্যগুলির সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের যোগ্যতা বৃদ্ধি, শিল্পক্ষেত্রের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলা এবং দক্ষতা উন্নয়নের উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একজন নিয়মিত উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টিও উত্থাপন করেন এবং কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া শীঘ্রই সম্পন্ন করা হবে। এছাড়াও, প্রতিনিধিদলটি ত্রিপুরার দুটি নতুন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চারটি নতুন সাধারণ ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভারত সরকারের কাছে বিশেষ আর্থিক সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছে। এই সহায়তা রাজ্যের শিক্ষা পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে, উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে এবং রাজ্যের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের আধিকারিকগণ উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ত্রিপুরা সরকারের গৃহীত উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং বৈঠকে উত্থাপিত বিষয়গুলির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ত্রিপুরাকে একটি এডুকেশন হাবে পরিণত করার রাজ্য সরকারের লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে, কেন্দ্রীয়মন্ত্রী একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। এই কমিটি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি রূপরেখা ও ভিশন ডকুমেন্ট প্রস্তুত করবে; যেখানে নতুন পাঠ্যক্রমের ভবিষ্যৎ চাহিদা, প্রাতিষ্ঠানিক সম্প্রসারণ এবং পরিকাঠামোগত প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করা হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে রাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবদান নিশ্চিত করা। এছাড়া, জনজাতি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ও গবেষণামূলক কাজে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষানীতি গ্রহণের ওপরও কেন্দ্রীয়মন্ত্রী বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি রাজ্যের যুবসমাজের জন্য উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যৌথ অঙ্গীকারকেই প্রতিফলিত করেছে।
