অলিম্পিক দিবসে ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহার
আগরতলা, ২৩ জুন : যুব সমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তাই রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামোকে আধুনিক ও উন্নত করে তোলার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চলেছে। মঙ্গলবার অলিম্পিক দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন প্রাঙ্গণ থেকে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য রেলির সূচনা করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের ক্রীড়াবিদদের উন্নত সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং তাঁদের প্রতিভা বিকাশের জন্য সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, অতীতে রাজ্যের বিভিন্ন ক্রীড়া কমিটি ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে পারেনি। ফলে খেলাধুলার ক্ষেত্রেও নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনে উদ্যোগী হয়েছে এবং প্রতিটি জেলা ও মহকুমায় আধুনিক ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যের ছেলে-মেয়েদের খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট করতে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের সুযোগ করে দিতে একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নত পরিবেশ সৃষ্টি হলে যুবসমাজ মাদকাসক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রাক্তন কৃতি খেলোয়াড়দের যথাযথ সম্মান প্রদানের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে রাজ্যের বহু কৃতী ক্রীড়াবিদ তাঁদের প্রাপ্য মর্যাদা পাননি। বর্তমান সরকার সেই ভুল শুধরে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন ইন্ডোর স্টেডিয়াম, অ্যাথলেটিক ট্র্যাক, গ্যালারি এবং অন্যান্য ক্রীড়া অবকাঠামোর নামকরণ প্রাক্তন কৃতি খেলোয়াড়দের নামে করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ত্রিপুরা অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংস্থাটি বর্তমানে সঠিক দিশায় কাজ করছে বলেই সম্প্রতি ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের স্বীকৃতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এই স্বীকৃতি রাজ্যের ক্রীড়া জগতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দফতরের মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, রাজ্যের যুব সমাজের প্রতিভা বিকাশে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। ক্রীড়া ছাড়াও শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রতিভাবানদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, যোগ্য ও মেধাবী খেলোয়াড়দের জন্য স্পোর্টস কোটায় চাকরির সুযোগ সৃষ্টির বিষয়েও সরকার ইতিবাচকভাবে চিন্তাভাবনা করছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, বিধায়ক অন্তরা সরকার দেব, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দফতরের সচিব ডঃ পিকে চক্রবর্তী, অধিকর্তা এল ডার্লং, ত্রিপুরা অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রতন সাহা, সম্পাদক সুজিত রায়সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠান শেষে অলিম্পিক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত রেলিতে মুখ্যমন্ত্রীসহ উপস্থিত অতিথি, ক্রীড়াবিদ, বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিপুল সংখ্যক যুবক-যুবতী অংশগ্রহণ করেন। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথ পরিক্রমা করে রেলিটি অলিম্পিকের আদর্শ, খেলাধুলার গুরুত্ব এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়।
