iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1=3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0"frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe
Tripura

রবীন্দ্রজয়ন্তীতে আগরতলা মুখর, বর্ণাঢ্য প্রভাতফেরি ও কবি প্রণামে শ্রদ্ধার্ঘ্য বিশ্বকবিকে

আগরতলা, মে : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে শনিবার রাজধানী আগরতলা জুড়ে আবেগ, শ্রদ্ধা ও সাংস্কৃতিক উচ্ছ্বাসে পালিত হলো একাধিক অনুষ্ঠান। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে দিনভর অনুষ্ঠিত হয় প্রভাতফেরি, কবি প্রণাম, রবীন্দ্রসঙ্গীত, আবৃত্তি এবং আলোচনা সভা। রবীন্দ্রচেতনার আবেশে এদিন যেন নতুন করে জেগে ওঠে গোটা শহর।

বিশ্বসাহিত্যে বাংলা ভাষাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়া এবং এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে সারা দেশের সঙ্গে ত্রিপুরাতেও যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। রাজধানী আগরতলায় এদিনের প্রধান আকর্ষণ ছিল বাংলা সংস্কৃতি বলয়ের আগরতলা শাখা ও আগরতলা সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য প্রভাতফেরি।

সকালে রবীন্দ্রস্মৃতি বিজড়িত ঐতিহ্যবাহী উমাকান্ত একাডেমি প্রাঙ্গণে বিশ্বকবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে রবীন্দ্রসংগীত, আবৃত্তি এবং ‘আগুনের পরশমণি’ ও ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ সহ একাধিক গানের সুরে সুরে শুরু হয় শোভাযাত্রা। প্রভাতফেরিতে অংশ নেন রাজ্যের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, সাহিত্যপ্রেমী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষ।

শোভাযাত্রাটি উমাকান্ত একাডেমি থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথ পরিক্রমা করে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক উজ্জয়ন্ত প্রাসাদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় রবি বন্দনা, সমবেত সংগীত এবং কবিগুরুর জীবন ও কর্ম নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা।

অনুষ্ঠান সম্পর্কে বাংলা সংস্কৃতি বলয়ের আগরতলা শাখার পৃষ্ঠপোষক এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক সেবক ভট্টাচার্য বলেন, “এবারের রবীন্দ্রজয়ন্তী ত্রিপুরার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনে সাতবার ত্রিপুরায় এসেছিলেন। তাঁর শেষ ত্রিপুরা সফরের শতবর্ষ পূর্ণ হচ্ছে এ বছর। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে সামনে রেখেই এবারের অনুষ্ঠান বৃহত্তর পরিসরে আয়োজন করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ত্রিপুরার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। ত্রিপুরার রাজপরিবারের সঙ্গে কবিগুরুর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। এই সম্পর্ক শুধু সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেই নয়, শিক্ষা ও সমাজচিন্তার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে, রাজধানীর অন্যান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও নিজস্ব উদ্যোগে কবি প্রণাম অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল নেতাজি সুভাষ রোডস্থিত ছাত্রবন্ধু ক্লাবের অনুষ্ঠান। ক্লাব প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, কেক কাটা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে জন্মজয়ন্তী উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রবন্ধু ক্লাবের সভাপতি তথা আইনজীবী তপন সাহা, সম্পাদক সুশান্ত কুমার সাহা এবং অন্যান্য সদস্যরা। বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথ কেবল একজন কবি নন, তিনি ছিলেন একাধারে দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, সুরকার ও মানবতাবাদী। তাঁর সাহিত্য ও জীবনদর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও দিনভর অনুষ্ঠিত হয় রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, প্রবন্ধ পাঠ এবং আলোচনা সভা। শিশু থেকে প্রবীণ—সকলের অংশগ্রহণে রবীন্দ্রজয়ন্তী হয়ে ওঠে এক মিলনমেলা।

কবিগুরুর সৃষ্টি, চিন্তা ও মানবতার বাণীকে স্মরণ করে এদিন আগরতলাবাসী শ্রদ্ধাভরে উচ্চারণ করেন—“চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির।” বিশ্বকবির জন্মজয়ন্তীতে তাঁর প্রতি জানানো হয় আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *