শিশু শ্রম বিরোধী দিবসের প্রাক্কালে বটতলা বাজারে অভিযান, উদ্ধার দুই শিশু শ্রমিক
আগরতলা, ১১ জুন : আন্তর্জাতিক শিশু শ্রম বিরোধী দিবসের প্রাক্কালে রাজধানী আগরতলায় বটতলা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুই শিশু শ্রমিককে উদ্ধার করেছে শ্রম দফতরের নেতৃত্বাধীন যৌথ অভিযানকারী দল। উদ্ধার হওয়া দুই শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে নিয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে শিশু শ্রম (নিষিদ্ধকরণ ও নিয়ন্ত্রণ) আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পরিচালিত এই অভিযানে শ্রম দফতরের পাশাপাশি সদর মহকুমা প্রশাসন এবং রাজ্য পুলিশের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। অভিযানকারী দলে ছিলেন সদর মহকুমা প্রশাসনের ডেপুটি কালেক্টর ও ম্যাজিস্ট্রেট (ডিসিএম), জেলা শ্রম আধিকারিক, লেবার ইন্সপেক্টর, জয়েন্ট লেবার কমিশনারসহ অন্যান্য প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকরা।
অভিযান চলাকালীন বটতলা বাজার এলাকার একটি খাবারের দোকান, সত্যনারায়ণ ফাস্ট ফুড সেন্টার-এ হানা দিয়ে এক শিশু শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। পরে একই এলাকার রাধাকৃষ্ণ মোটরবাইক সার্ভিসিং সেন্টার-এ অভিযান চালিয়ে আরও এক শিশু শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে শিশুদের দিয়ে শ্রমমূলক কাজ করানো হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
শ্রম দফতরের জয়েন্ট কমিশনার বিনয় ভূষণ দাস সাংবাদিকদের জানান, শিশু শ্রম নির্মূলে রাজ্য সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে, কোনও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কিংবা গৃহস্থালির কাজে ১৮ বছরের নিচে শিশু-কিশোরদের নিযুক্ত করা হলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শিশু শ্রম একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত দুই দোকান মালিকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী দোষ প্রমাণিত হলে তাঁদের ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ জুন সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক শিশু শ্রম বিরোধী দিবস পালিত হবে। তার আগে রাজ্যের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা বটতলা বাজারে এই অভিযান বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছে প্রশাসন। শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক শৈশব নিশ্চিত করতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন শ্রম দফতরের কর্মকর্তারা।
শিশু শ্রম নির্মূলের লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত নজরদারি এবং আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সন্দেহজনক ঘটনা প্রশাসনের নজরে আনার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম দফতরের জয়েন্ট কমিশনার বিনয় ভূষণ দাস। তাঁর মতে, শিশুদের শ্রমে নয়, শিক্ষার আলোয় এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সভ্য সমাজের প্রধান দায়িত্ব।
