আগরতলায় অফিস লেন অপহরণকাণ্ডে মূল চক্রী বিশ্বজিৎ দাস গ্রেফতার
আগরতলা, ১৩ জুন : রাজধানী আগরতলার বহুল আলোচিত অফিস লেন অপহরণকাণ্ডে অবশেষে মাস্টারমাইন্ডকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে সিপাহিজলা জেলার বিশালগড়ের উত্তর ব্রজপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ দাস ওরফে ‘ব্যাটারি বিশু’-কে গ্রেফতার করে পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশ। শনিবার তাঁকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ মে বিকেলে রাজধানী আগরতলার ব্যস্ত অফিস লেন এলাকা থেকে সোনামুড়ার শান্তিপল্লীর বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী ধানু দাসকে প্রকাশ্য দিবালোকে অপহরণ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, চারজন দুষ্কৃতিকারী ধানু দাসকে মারধর করে একটি সাদা রঙের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে ঘটায় রাজধানীজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ঘটনার তদন্তে নেমে পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অপহৃত ধানু দাসকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে অপহরণে সরাসরি জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী তদন্তে আরও একজন অভিযুক্তকে আটক করা হয়। তবে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ব্যাটারি বিশু দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের চোখ এড়িয়ে আত্মগোপন করে ছিল।
সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও) দেবপ্রসাদ রায় শনিবার পশ্চিম আগরতলা থানায় সাংবাদিকদের জানান, গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায় যে ব্যাটারি বিশু শুক্রবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে বিশালগড়ের উত্তর ব্রজপুরে তাঁর বাড়িতে এসেছে। শনিবার ভোরেই পুনরায় এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পশ্চিম আগরতলা থানার ওসি রানা চ্যাটার্জি এবং মামলার তদন্তকারী আধিকারিক এসআই দিলীপ দাসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল অভিযান চালায়।
শুক্রবার গভীর রাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে অভিযুক্তের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। অভিযানের সময় ব্যাটারি বিশুকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাঁকে আগরতলায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। শনিবার আদালতে তোলা হলে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বিশালগড়ের কুখ্যাত ব্যাটারি বিশুর একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে নেশা দ্রব্যের অবৈধ কারবার সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহের কাজ করত। রাজ্যের কোথা থেকে মাদকদ্রব্য আসছে এবং কোথায় যাচ্ছে, সেই সংক্রান্ত তথ্য বিভিন্ন নেশা কারবারিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তদন্তকারীদের ধারণা, এই অপরাধচক্রের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, ব্যাটারি বিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অপহরণকাণ্ডের নেপথ্যের উদ্দেশ্য, অর্থনৈতিক লেনদেন এবং তাঁর গ্যাংয়ের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ইতিমধ্যে এই মামলায় একাধিক গ্রেফতারি হয়েছে এবং তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
অফিস লেনের মতো জনবহুল এলাকায় সংঘটিত এই অপহরণকাণ্ডে মূল চক্রী গ্রেফতার হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে পুলিশ মহলে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ এখনও অধরা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ২৭ দিনের ধারাবাহিক তদন্তের পর মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করাকে মামলার অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে তদন্তকারী দল।
