ধলাই জেলায় ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী
কমলপুর, ১৬ জুন: রাজ্যের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে সরকার বদ্ধপরিকর বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। মঙ্গলবার কমলপুরের হালাহালি দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের নবনির্মিত দ্বিতল ভবনসহ ধলাই জেলার ১৫টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করে তিনি এই কথা বলেন।
হালাহালি দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ যেমন উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে, তেমনি রাজ্য সরকারও জনগণের কল্যাণে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে রাজ্যের অ্যাসপিরেশনাল ব্লকগুলির উন্নয়নে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।
এদিন উদ্বোধন হওয়া প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে আমবাসা ডিগ্রি কলেজের সংস্কার, কমলপুর ইংলিশ মিডিয়াম দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন, সালেমা দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগার ও ল্যাবরেটরি নির্মাণ, দুটি নতুন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, একটি বক্স কালভার্ট, তিনটি সিসি রোড, একটি পেভার ব্লক রাস্তা এবং দুটি ইট বিছানো রাস্তা। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী সালেমা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং শান্তিরবাজারে একটি সেতু নির্মাণ প্রকল্পের শিলান্যাসও করেন।
শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা ইতিমধ্যেই দেশের তৃতীয় পূর্ণ স্বাক্ষর রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্মার্ট ক্লাসরুম, ‘নিপুণ ত্রিপুরা’ কর্মসূচি, ছাত্রীদের সাইকেল বিতরণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া জনজাতি ছাত্রছাত্রীদের উন্নত শিক্ষার সুযোগ করে দিতে ২১টি একলব্য মডেল স্কুল নির্মাণের কাজ চলছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও রাজ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা এবং মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, পিএম-কিষাণ, পিএম জনমনসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
মহিলাদের স্বনির্ভরতা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৫৫ হাজার স্বসহায়ক দল গঠন করা হয়েছে, যার সঙ্গে পাঁচ লক্ষেরও বেশি মহিলা যুক্ত রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী কন্যা আত্মনির্ভর যোজনা, মুখ্যমন্ত্রী বালিকা সমৃদ্ধি যোজনা এবং মুখ্যমন্ত্রী কন্যা বিবাহ যোজনার মতো প্রকল্পের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়নমূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে ৩৫০টিরও বেশি জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছে। নীতি আয়োগও রাজ্যের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেছে। রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের কাজে সকলকে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন বিধায়ক মনোজ কান্তি দেব এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন ধলাই জেলার জেলাশাসক বিবেক এইচ. বি.। এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় ৮টি আবর্জনা সংগ্রহকারী গাড়িরও আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধলাই জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুস্মিতা দাস, বিধায়ক স্বপ্না দাস পাল, শিক্ষা দপ্তরের সচিব ডা. মিলিন্দ রামটেকে, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব তপন কুমার দাস, জেলা পুলিশ সুপার আর. দেশাইসহ বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
