জিলজিলিয়া ও মাজরা আল-নুবানি গ্রামের দুটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি সেটেলাররা
অনলাইন ডেস্ক, ১৭ জুন।। অধিকৃত পশ্চিম তীরের কেন্দ্রীয় শহর রামাল্লার উত্তরে অবস্থিত জিলজিলিয়া ও মাজরা আল-নুবানি গ্রামের দুটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি সেটেলাররা। সেই সঙ্গে ইসরায়েলিরা মসজিদ দুইটির দেয়ালে হিব্রু ভাষায় স্লোগান লিখে দিয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা এএফপির সাংবাদিকরা অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের আলামত দেখেছেন।
ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরে সম্প্রতি ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলার পরিমাণ বেড়েছে। রামাল্লার উত্তরে জিলজিলিয়া গ্রামের কাউন্সিল প্রধান ওসামা আবদুল্লাহ এএফপিকে বলেন, বসতি স্থাপনকারীরা ওজু করার কক্ষে আগুন দিয়েছে। মসজিদের বাইরের দেয়ালে বিদ্বেষমূলক স্লোগানও লিখেছে।
এ ঘটনা নিয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি। বুধবার ঘটনাস্থলে যাওয়া এএফপির সাংবাদিকরা জানান, আগুন ও ধোঁয়ায় মসজিদের ছাদ, দেয়াল ও মেঝে কালো হয়ে গেছে। দেয়ালে হিব্রু ভাষায় গ্রাফিতি লেখা হয়েছে। সেখানে ‘প্রতিশোধ’ ও ‘হিলটপ ইয়ুথের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা’ লেখা ছিল।
হিলটপ ইয়ুথ হলো পশ্চিম তীরে সক্রিয় একদল ইসরায়েলি উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারী। তাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ আছে। জিলজিলিয়া গ্রামের কাউন্সিল প্রধান আবদুল্লাহ বলেন, মধ্যরাত থেকে ভোরের মধ্যে বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদটি পুড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আসে। মূল দরজা বন্ধ থাকায় তারা নিচতলার ওজু করার কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স কর্মী, গ্রামের তরুণ এবং আশপাশের এলাকার লোকজন মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুজালেম বাদ দিয়ে এই অঞ্চলে প্রায় ৫ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করে। একই এলাকায় প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন।
