স্কুল স্তরে মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে জোর, নেশা ও বাল্যবিবাহ রোধে দুই দিনের কর্মশালা শুরু
আগরতলা, ১৭ জুন : ছাত্রছাত্রীদের নেশা, বাল্যবিবাহ ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার প্রবণতা থেকে দূরে রাখতে এবার স্কুল স্তরে মানসিক স্বাস্থ্য ও সচেতনতা বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার আগরতলায় প্রজ্ঞা ভবনে দুই দিনের কর্মশালার সূচনা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট মিশন ম্যানেজমেন্ট ইউনিট (ডিএমএমইউ), পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় রাজধানীর বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকারা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালার উদ্বোধন করেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ডাঃ বিশাল কুমার। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রশাসনিক আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালার আয়োজনে সহযোগিতা করছে ‘স্বাভিমান’।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলাশাসক ডাঃ বিশাল কুমার বলেন, বর্তমান সময়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে নেশার প্রবণতা, বাল্যবিবাহ এবং পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়ার মতো সমস্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব সামাজিক ব্যাধি থেকে নতুন প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে বিদ্যালয় এবং প্রশাসনের মধ্যে আরও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে উঠেছে। সেই উদ্দেশ্যেই প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের নিয়ে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা এবং প্রশাসন যৌথভাবে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য, আচরণগত পরিবর্তন এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করবে। শিক্ষার্থীদের মানসিক সমস্যাগুলি প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জেলাশাসক আরও বলেন, বিভিন্ন তথ্য ও সমীক্ষায় দেখা গেছে ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী এবং যুব সম্প্রদায়ের মধ্যেই নেশার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ফলে শুধুমাত্র চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। বিদ্যালয় স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে এই সমস্যা মোকাবিলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই এক সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেশার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর সেই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
দুই দিনের এই কর্মশালায় মানসিক স্বাস্থ্য, নেশা প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ রোধ, বিদ্যালয়ত্যাগী শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষার মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক মানসিক বিকাশ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলিতে একটি সুস্থ ও সচেতন শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
