iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1=3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0"frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe
Tripura

ভোজ্য তেলে স্বনির্ভরতার পথে ত্রিপুরা, বাড়ছে পাম অয়েল চাষে কৃষকদের আগ্রহ : কৃষিমন্ত্রী

আগরতলা, ২০ জুন : দেশে ভোজ্য তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে ত্রিপুরায় পাম অয়েল চাষ সম্প্রসারণে জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। কৃষকদের মধ্যে এই চাষের প্রতি আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ। শনিবার পাম অয়েল চাষে কৃষকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠকে পাম অয়েল চাষের বর্তমান অগ্রগতি, কৃষকদের বিভিন্ন সুবিধা প্রদান, নতুন এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কৃষি দফতরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

পর্যালোচনা বৈঠক শেষে কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথ সাংবাদিকদের জানান, ভারত কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ হলেও ভোজ্য তেল উৎপাদনে এখনও পিছিয়ে রয়েছে। ফলে দেশের চাহিদা মেটাতে বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যার কারণে প্রতিবছর বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশে ভোজ্য তেল উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিশেষ মিশন গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, সেই জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিন বছর ধরে ত্রিপুরায় পাম অয়েল চাষের প্রসার ঘটানো হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্যের ৬ হাজার হেক্টর জমিকে পাম অয়েল চাষের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তবে সরকার নতুন উদ্যমে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষেও আরও ৬ হাজার হেক্টর জমিতে পাম অয়েল চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্য স্থির করেছে।

রতনলাল নাথ বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ ভারতের জলবায়ু পাম অয়েল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ত্রিপুরায় ইতিমধ্যে মোট ১২ হাজার হেক্টর জমিতে পাম অয়েল চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই চাষ রাবার চাষের তুলনায় অধিক লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এর প্রতি আগ্রহ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, পাম অয়েল চাষের প্রসারের জন্য পতঞ্জলি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত দুটি সংস্থার সঙ্গে রাজ্য সরকারের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওই সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে এবং কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছে।

কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকার একাধিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে বলেও জানান তিনি। পাম অয়েল চাষের জন্য কৃষকদের বিনামূল্যে চারা ও বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জমি পরিষ্কার, জঙ্গল সাফাই এবং ফেন্সিংয়ের মতো প্রাথমিক পরিকাঠামোগত কাজের জন্যও সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কৃষকদের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ পাম অয়েল বাগান গড়ে উঠেছে, তার ফলন আগামী বছর থেকে পাওয়া শুরু হবে। ফলে ত্রিপুরায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে পাম অয়েল উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। এর মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

রাজ্য সরকার মনে করছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পাম অয়েল চাষের ব্যাপক বিস্তার ঘটলে ত্রিপুরা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভোজ্য তেল উৎপাদনকারী রাজ্যে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের ভোজ্য তেলে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্য পূরণেও রাজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *