আগরতলায় বাজেয়াপ্ত ১৪৩৫ শিশি নিষিদ্ধ কফ সিরাপ, গ্রেফতার ২
আগরতলা, ২৫ জুন : ত্রিপুরায় মাদক পাচারের নতুন কৌশল হিসেবে কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করার চেষ্টা ব্যর্থ করল পুলিশ। খয়েরপুর এলাকার একটি কুরিয়ার সংস্থায় আসা পাঁচটি সন্দেহজনক পার্সেল থেকে উদ্ধার হয়েছে ১,৪৩৫ শিশি নিষিদ্ধ এসকাফ কফ সিরাপ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত কফ সিরাপের কালোবাজারি মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা বলে অনুমান করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে পুরাতন আগরতলার খয়েরপুরস্থিত একটি কুরিয়ার সার্ভিসে পাঁচটি বড় প্যাকেট এসে পৌঁছায়। প্যাকেটগুলির গতিবিধি ও ওজন নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় কুরিয়ার সংস্থার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে বোধজংনগর থানায় জানায়। খবর পেয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার পরীক্ষিত দেববর্মার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন খয়েরপুর আউটপোস্টের ওসি মৃণাল কান্তি পালও।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে জিরানিয়া মহকুমা শাসকের কার্যালয়েও খবর পাঠানো হয়। পরে ডেপুটি কালেক্টর ম্যাজিস্ট্রেট (ডিসিএম)-এর উপস্থিতিতে সন্দেহজনক পাঁচটি প্যাকেট খোলা হয়। তল্লাশিতে দেখা যায়, প্যাকেটগুলির ভেতরে মোট ১,৪৩৫ শিশি এসকাফ কফ সিরাপ মজুত রয়েছে। এরপরই প্যাকেটগুলির প্রাপক ও প্রেরকের তথ্য খতিয়ে দেখতে শুরু করে পুলিশ।
তদন্তে প্রাপকের ঠিকানা সূত্র ধরে পুলিশ সাদা পোশাকে রাজধানী আগরতলায় এনসিসি থানাধীন ভোলাগিরি এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে পৌঁছে দুই সন্দেহভাজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস অ্যাক্ট-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁদের আদালতে তোলা হয়েছে এবং পুলিশি রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, এই মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত রয়েছে। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে কোথা থেকে এই বিপুল পরিমাণ কফ সিরাপ পাঠানো হয়েছিল এবং এর গন্তব্য কোথায় ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা চক্রের নেপথ্যের সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে মাদক পাচারকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই আকাশপথ, সড়কপথ, রেলপথ এবং ডাক বিভাগের পাশাপাশি বিভিন্ন কুরিয়ার পরিষেবাকেও ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তবে কুরিয়ার সংস্থার কর্তৃপক্ষের তৎপরতা ও পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে এবার একটি বড় মাদক চালান উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনাকে মাদকবিরোধী অভিযানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
