iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1=3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0"frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe
Lead News

জনজাতি সমাজের বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও গৌরবময় ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার আহ্বান

আগরতলা, ৭ নভেম্বর : জনজাতি সমাজের গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁদের অসামান্য অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির জনজাতি মোর্চার উদ্যোগে শনিবার আগরতলার ভগত সিং যুব আবাসে বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। জনজাতি গৌরব দিবসকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মশালায় দলের জনজাতি নেতৃত্ব, পদাধিকারী ও কর্মীদের উপস্থিতিতে জনজাতি সমাজের বীরত্বগাথা এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁদের আত্মত্যাগের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির প্রদেশ সভাপতি অভিষেক দেবরায়, সংগঠন মন্ত্রী রবীন্দ্র রাজু, জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, বিধানসভার অধ্যক্ষ রামপদ জমাতিয়া সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব ও কর্মীরা। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে কর্মশালার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন বিজেপির প্রদেশ সভাপতি অভিষেক দেবরায় সহ অন্যান্য অতিথিরা।

কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক দেবরায় বলেন, ভগবান বীরসা মুণ্ডা ছিলেন জনজাতি সমাজের এক মহান নেতা। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বীরসা মুণ্ডাই নন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য জনজাতি বীর তাঁদের সাহস, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন তাঁদের অনেকের অবদান যথাযথভাবে প্রচারের আলোয় আসেনি।

তিনি বলেন, জনজাতি সমাজের এই গৌরবময় ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে যথাযথ সম্মান জানাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৫ নভেম্বর দিনটিকে জনজাতি গৌরব দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এর মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে জনজাতি সমাজের অবদানকে জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অভিষেক দেবরায়ের দাবি, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার জনজাতি সমাজের বীর সন্তানদের ইতিহাস, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে জনজাতি সমাজের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অথচ সেই ইতিহাসের বহু অধ্যায় সাধারণ মানুষের কাছে এখনও অজানা। তাই জনজাতি সমাজের বীরত্বপূর্ণ ইতিহাসকে যথাযথভাবে প্রচার করা এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে সেই ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও জানান, জনজাতি গৌরব দিবস উপলক্ষ্যে দিল্লি থেকে সমীর রুরাংজির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পাশাপাশি দলের জনজাতি নেতৃত্ব ও অন্যান্য কর্মীদের নিয়ে বিশেষ কর্মশালারও আয়োজন করা হবে। এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জনজাতি সমাজের গৌরবময় অতীত, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁদের অবদানের বিষয়গুলি আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় জনজাতি সমাজের ঐতিহাসিক ভূমিকা সম্পর্কে দলীয় কর্মীদের অবহিত করার পাশাপাশি সেই ইতিহাস সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে জনজাতি বীরদের জীবনসংগ্রাম, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের কাহিনি তুলে ধরার মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে জাতীয় চেতনা ও ঐতিহ্যবোধ জাগ্রত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, আগামী ১৫ নভেম্বর ভগবান বীরসা মুণ্ডার জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে জনজাতি গৌরব দিবস পালন করা হবে। সেই কর্মসূচিকে সামনে রেখেই আগরতলায় বিজেপি জনজাতি মোর্চার এই বিশেষ কর্মশালার আয়োজন বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *