তুলাশিখর ব্লকের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে চরম অব্যবস্থা, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
খোয়াই, ৩ ফেব্রুয়ারি : খোয়াই জেলার তুলাশিখর ব্লক এলাকার একাধিক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বর্তমানে মারাত্মক পরিকাঠামোগত সংকটে ভুগছে। শিশুদের পুষ্টি ও শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ থাকলেও দফতরের পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাবে কেন্দ্রগুলির কার্যক্রম কার্যত মনমতোভাবে পরিচালিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে উপজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি সবচেয়ে করুণ।
দফতরের পর্যাপ্ত সুপারভাইজারের অভাবে নিয়মিত পরিদর্শন প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে সুপারভাইজার বা সিডিপিও-র পরিদর্শনের কথা থাকলেও বাস্তবে তিন থেকে চার মাসে একবার দেখা মিলছে বলে জানা গেছে। এর ফলেই পঠন-পাঠন ও পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে।
পরিকাঠামোগত সমস্যাও প্রকট। তুলাশিখর ব্লকে মোট ২২৩টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ২১টি কেন্দ্রে পানীয় জলের উৎস সম্পূর্ণরূপে বিকল। বহু কেন্দ্রে পানীয় জলের ট্যাঙ্ক নির্মাণ করা হলেও সেগুলি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে কোথাও কোথাও শিশুদের খাবার তৈরির জন্য প্রায় ৩০০ মিটার দূর থেকে জল সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
এক সমীক্ষায় আরও জানা গেছে, তুলাশিখর আইসিডিএস প্রকল্পের আওতাধীন মোট ৩৯টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে কর্মী ও সহায়িকার পদ শূন্য রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রগুলি বন্ধ থাকছে। চাম্পাহাওড় সেক্টরের অন্তর্গত বুধরাই পাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সহায়িকা কিরণমালা দেববর্মা অবসর গ্রহণের পর দিদিমনি সুরনকলি দেববর্মার অনুপস্থিতির কারণে কেন্দ্রটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
শৌচাগার ও রান্নাঘরের অবস্থাও শোচনীয়। মোট ৩৪টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শৌচালয় ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং ৩২টি কেন্দ্রে রান্নাঘর ভেঙে পড়া বা নষ্ট অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগুলি চললেও তা সমাধানে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
একাধিকবার উর্ধ্বতন মহলে বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় এলাকাবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ জমা হয়েছে। দ্রুত দফতরের উর্ধতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ ও সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধানের দাবি উঠছে।
