মহিলাদের স্বাবলম্বী করেই গার্হস্থ্য হিংসা রোধে উদ্যোগ, আগরতলায় রাজ্যভিত্তিক কর্মশালা
আগরতলা, ১৩ ফেব্রুয়ারি: মহিলাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে গার্হস্থ্য হিংসা ও যৌতুক প্রথা রোধের লক্ষ্যে ত্রিপুরা সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে শুক্রবার রাজধানী আগগরতায় একটি হোটেলে সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দফতরের উদ্যোগে “যৌতুক ও গার্হস্থ্য হিংসা প্রতিরোধে আইনি ও সামাজিক ব্যবস্থা” শীর্ষক রাজ্যভিত্তিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালার উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দফতরের মন্ত্রী টিংকু রায়। অনুষ্ঠানে দফতরের বিভিন্ন আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, বাল্যবিবাহ গার্হস্থ্য হিংসার অন্যতম প্রধান কারণ। কম বয়সে বিয়ে হওয়ায় বালিকা বধুরা সংসারের দায়িত্ব ও পারিবারিক বাস্তবতা বুঝে উঠতে পারে না, ফলে নানা সমস্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়। পাশাপাশি মহিলাদের আর্থিক দুর্বলতাও গার্হস্থ্য হিংসার একটি বড় কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, মহিলাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে সরকার একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে মহিলাদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবং সরকারি কর্মসূচিগুলি আরও বেশি সংখ্যক মহিলার কাছে পৌঁছে দিতে এই ধরনের কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ত্রিপুরা রুরাল লাইভলিহুড মিশন (টিআরএলএম)-এর মাধ্যমে ইতিমধ্যে পাঁচ লক্ষেরও বেশি মহিলাকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আওতায় আনা হয়েছে এবং তাঁদের বিভিন্ন দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত মহিলাদের মধ্যে প্রায় ২০০০ কোটি টাকার ঋণও প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, মহিলাদের স্বশক্তিকরণ ও আর্থিক স্বাবলম্বিতার মাধ্যমে সমাজে গার্হস্থ্য হিংসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।
