আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের ৭২ ঘণ্টার অবরোধ ঘিরে ধোঁয়াশা, বৈঠকেও মিলল না সমাধান
আগরতলা, ১১ জুন : আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের ডাকা ৭২ ঘণ্টার জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে অনিশ্চয়তা কাটল না। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ত্রিপুরা সরকারের সঙ্গে এনএলএফটি ও এটিটিএফ-এর আত্মসমর্পনকারী জঙ্গিদের দীর্ঘ বৈঠক হলেও আন্দোলন প্রত্যাহার বা দাবিদাওয়া সংক্রান্ত কোনও সুনির্দিষ্ট সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসেনি। তবে রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের নেতৃত্ব জানিয়েছেন, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বৈঠকের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক চুক্তির বিভিন্ন শর্ত দীর্ঘদিন ধরেও বাস্তবায়িত না হওয়ার অভিযোগ তুলে শুক্রবার সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ৭২ ঘণ্টার জন্য জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিরা। এই কর্মসূচি ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ের তিন নম্বর কনফারেন্স হলে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, সংশ্লিষ্ট দফতরের সচিব, বিভিন্ন সরকারি বিভাগের শীর্ষ আধিকারিক এবং রাজ্য পুলিশের প্রতিনিধিরা। আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের পক্ষ থেকেও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রায় এক ঘণ্টা কুড়ি মিনিট ধরে বৈঠক চলে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা জানান, আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের উত্থাপিত দাবিগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “চুক্তির ভিত্তিতে অস্ত্র ত্যাগ করে যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন, তাঁদের কিছু ন্যায্য দাবি রয়েছে। সরকার সেই বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে। মুখ্যমন্ত্রী বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং তিনি বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত।”
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষপাতী এবং আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার নিষ্পত্তি সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিরা বৃহত্তর জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করবেন।
অন্যদিকে বৈঠকের পর আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি নেতা প্রসেনজিৎ দেববর্মা জানান, আন্দোলনের বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তিনি বলেন, “মন্ত্রী আমাদের আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। সংগঠনের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাব।”
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি অপূর্ণ থাকায় আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সেই কারণেই আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আলোচনার দরজা এখনও খোলা রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এদিকে বৈঠক চলাকালীন সময় থেকেই সম্ভাব্য অবরোধ কর্মসূচিকে সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের জমায়েত শুরু হয়েছে বলে খবর। অসম-আগরতলা জাতীয় সড়কের বড়মুড়া এলাকায় বিপুল সংখ্যক আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি সমবেত হতে শুরু করেছেন। একইভাবে ২০৮ নম্বর জাতীয় সড়কের খোয়াই এলাকাতেও উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ফলে অবরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবারের বৈঠকের পরও পরিস্থিতি অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে গেছে। এখন নজর আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের অভ্যন্তরীণ বৈঠকের দিকে। সেখান থেকেই নির্ধারিত হবে শুক্রবার থেকে ঘোষিত ৭২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি বহাল থাকবে, নাকি শেষ মুহূর্তে তা প্রত্যাহার করা হবে।
