প্রকাশ্য দিবালোকে নর্দমায় অচৈতন্য গৃহবধূ! দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ঘিরে রহস্য
আগরতলা, ৬ নভেম্বর : প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তার পাশের নর্দমা থেকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হলেন অজ্ঞাতপরিচয় গৃহবধূ। দীর্ঘক্ষণ ধরে অচৈতন্য অবস্থায় নর্দমার মধ্যে পড়ে থাকা ওই মহিলাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এনসিসি থানাধীন চানমারি রাবার বোর্ড সংলগ্ন এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এনসিসি ফায়ার স্টেশনের দমকল কর্মীরা। তাঁরা নর্দমা থেকে মহিলাকে উদ্ধার করে দ্রুত জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তাঁর পরিচয় উদ্ধারের পাশাপাশি কীভাবে তিনি ওই নর্দমায় পড়লেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন প্রকাশ্য দিবালোকে চানমারি রাবার বোর্ড সংলগ্ন এলাকার একটি নর্দমায় অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় ওই মহিলাকে। প্রথমে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। দীর্ঘক্ষণ ধরে একজন মহিলা নর্দমার মধ্যে পড়ে থাকলেও তাঁর পরিচয় সম্পর্কে কেউ কোনও তথ্য দিতে পারেননি। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ওই মহিলাকে এর আগে এলাকায় কখনও দেখা যায়নি। ফলে তিনি কোথা থেকে এসেছেন, কীভাবে সেখানে পৌঁছালেন কিংবা কী কারণে এই অবস্থায় নর্দমায় পড়ে রইলেন, তা নিয়ে তৈরি হয় ধোঁয়াশা।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে খবর দেওয়া হয় দমকল বিভাগে। খবর পেয়ে এনসিসি ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অচৈতন্য মহিলাকে উদ্ধার করেন। এরপর তাঁকে জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়।
এদিন জিবিপি হাসপাতালে এনসিসি ফায়ার স্টেশনের আধিকারিক বিশ্ব কুমার দেববর্মা জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা ওই মহিলার নাম-পরিচয় সম্পর্কে কিছুই বলতে পারেননি। এমনকি তাঁরা মহিলাকে চিনতেও পারছেন না বলে জানিয়েছেন। ফলে উদ্ধার হওয়া মহিলার পরিচয় এখনও অজ্ঞাতই রয়ে গেছে।
অন্যদিকে, জিবিপি হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, মহিলার বয়স আনুমানিক ৩০-৩২ বছর। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে এই আঘাতগুলি কোনও দুর্ঘটনার কারণে হয়েছে, নাকি এর পিছনে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা রয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই আঘাতের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
এদিকে, ঘটনাটি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কোনও দুর্ঘটনার জেরে কি মহিলা নর্দমায় পড়ে গিয়েছিলেন? নাকি তাঁকে কেউ সেখানে ফেলে রেখে গিয়েছে? শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকায় শারীরিক নির্যাতনের সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও তদন্তের আগে কোনও বিষয়েই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
ঘটনার পর জিবিপি ফাঁড়ির পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মহিলার পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি কী পরিস্থিতিতে তিনি চানমারি রাবার বোর্ড সংলগ্ন এলাকায় এসে নর্দমায় পড়লেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকাশ্য দিবালোকে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার এমন রহস্যজনক অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। এখন পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে, নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনও ঘটনা।
