কল্যাণপুরে সাড়া জাগানো শহীদ সমাবেশে আক্রমণাত্মক বক্তব্য মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি প্রদেশ সভাপতির
কল্যাণপুর, ১২ ডিসেম্বর।। পূর্ব নির্ধারিত সুচি অনুযায়ী ১২ ডিসেম্বর খোয়াই জেলার কল্যাণপুরের সোনার তরী মুক্তমঞ্চের সামনে বিজেপি কল্যাণপুর প্রমোদনগর মণ্ডল কমিটির আহ্বানে ১৯৯৬ সালের সন্ত্রাসবাদীদের হামলায় যাঁরা নিহত হয়েছিলেন তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাড়া জাগানো শহীদ স্মরণে সমাবেশ আয়োজিত হয়। এই সমাবেশকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য প্রায় পক্ষকাল ব্যাপি সাংগঠনিকভাবে কল্যাণপুর জুড়ে ব্যাপক প্রচার কর্মসূচি সংঘটিত হয়।
মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়ে শহীদ পরিবারের সদস্যা সরস্বতী গোপকে সভানেত্রী করে সভা মঞ্চে আলোচনা করতে গিয়ে প্রদেশ বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য প্রথমেই ১৯৯৬ সালের ১২ই ডিসেম্বর সন্ত্রাসবাদীদের বুলেটে যে ২৬টি প্রাণের বলি হয়েছিল তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। পাশাপাশি এদিন রাজীব ভট্টাচার্য দাবি করেন আজ গোটা ত্রিপুরা রাজ্যের দিকে দিকে শহীদ পরিবার সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কংগ্রেস মায়া কান্না করার চেষ্টা করলেও যখন বামপন্থীদের আমলে নৃশংসভাবে এই গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল তখন কংগ্রেস নেতৃত্বরা চুপ ছিলেন।
রাজীব ভট্টাচার্য আজকের কল্যাণপুরের এই শহীদ সমাবেশ মঞ্চ থেকে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন যেই বিরোধীরা কখনো রাজ্যের সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার কথা ভাবেনি, যাদের রাজনীতির কারণে বরাবর ত্রিপুরা রাজ্যে সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল আজ তারা কোন অধিকারে শহীদদের উদ্দেশ্যে মায়া কান্না করেন। এদিন রাজীব ভট্টাচার্য দাবি করেন বামপন্থীরা দীর্ঘ ২৫ বছরের শাসনের মধ্য দিয়ে ত্রিপুরা রাজ্যকে সন্ত্রাসবাদের আতুর ঘর বানিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন।
কিন্তু ২০১৮ সালের পর থেকে এ রাজ্যে পরিবর্তনের পর বিজেপি সরকার সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য একের পর এক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়িত করে চলেছে বলে রাজীব ভট্টাচার্যের দাবি। কল্যাণপুরে দাঁড়িয়ে রাজিব ভট্টাচার্য দাবি করেন বামপন্থীরা শুধুমাত্র আন্দোলনের নামে রাজনীতির মঞ্চকে দীর্ঘায়িত করেছে। কিন্তু বিজেপি সরকার বা বিজেপি দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করতে হয়।
সভা মঞ্চে আলোচনা করতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা প্রথমেই বলেন এই মঞ্চে আলোচনা করতে গিয়ে বারবার কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে যায় কারণ ২৬টা তাজা প্রাণ আজ থেকে ২৭ বছর আগে কল্যাণপুরে শহীদ হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী জোড় গলায় দাবি করেন তদানীন্তন কমিউনিস্টদের রাজনীতির ফসল হিসেবেই এই ২৬টা তাজা প্রাণকে অকালে ঝরে যেতে হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে এ রাজ্যের মানুষ বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট সচেতন হয়েছেন। কল্যাণপুরের মানুষ যথেষ্ট সচেতন বলেই বুলেটের বদলে মানুষ তার জবাব ব্যালট বক্সে প্রদান করেন বলে মুখ্যমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেন।
মুখ্যমন্ত্রী সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে আহ্বান করে বলেন ভয় পাওয়ার কোন কিছু নেই, চিন্তা করার কোন কিছু নেই, কারণ গোটা দেশের সাথে সাথে গোটা রাজ্যের মধ্যে কল্যাণপুরেও এখন মোদি গ্যারান্টি কাজ করছে।
প্রসঙ্গক্রমে মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণপুর এর সোনার তরী মুক্তমঞ্চে দাঁড়িয়ে বিগত ২০২৩ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক মুহুর্তে কংগ্রেস এবং সিপিআইএম যে জোট করেছে সেই জোটকে কটাক্ষ করার পাশাপাশি দাবি করেছেন বর্তমান সময়ে রাজ্য জুড়ে সিপিআইএম এবং কংগ্রেস অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রী সমবেত সকলের উদ্দেশ্যে আবেদন করে বলেন আগামীদিনে আরো আরো বেশি সমর্থনের মধ্য দিয়ে নরেন্দ্র মোদিকে শক্তিশালী করতে হবে। দেশের বিজেপিকে শক্তিশালী করতে হবে এবং কল্যাণপুরের বিজেপিকে শক্তিশালী করতে হবে।
এদিনের সভামঞ্চে এছাড়াও আলোচনা করেন স্থানীয় বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী, বিজেপি নেতৃত্ব সোমেন গোপ প্রমূখ। মঞ্চে এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিজেপি মন্ডল সভাপতি জীবন দেবনাথ, বিজেপি নেত্রী তথা মুখ্য সচেতক কল্যাণী সাহা রায় প্রমুখ। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন সভা মঞ্চের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্যরা সমবেত ভাবে সভা মঞ্চের পাশে অস্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ বেদিতে ফুল অর্পণ করার মধ্য দিয়ে শহীদদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন এবং একেবারে অনুষ্ঠানের শেষে মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্যদের হাত ধরে শহীদ পরিবারের সদস্য সদস্যাদের হাতে স্মারক উপহার তুলে দেওয়া হয়।
