বাইক দূর্ঘটনায় সাত বছরের ছেলের মৃত্যুর তিন দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হল বাবার
বিলোনিয়া, ১২ ডিসেম্বর।। জেলা শাসকের গাড়ির সাথে বাইকের সংঘর্ষ সাত বছরের ছেলের মৃত্যুর তিন দিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হল বাবার। ৯ ডিসেম্বর দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিলোনিয়ার উত্তম পাল ৭ বছরের ছেলেকে নিয়ে বাইকে চেপে বেরিয়ে ছিলেন। উত্তমের প্রয়াতা মায়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের জন্য শ্বশুরবাড়িতে নিমন্ত্রণ করতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে দক্ষিণ জেলার জেলা শাসকের গাড়ির সাথে তাঁর বাইকের সংঘর্ষ ঘটে। তাতে উত্তমের ছেলে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। উত্তমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জিবি হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু তাতেও প্রাণ রক্ষা হয়নি। একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু গত কয়েকদিনের ব্যবধানে। গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা গিয়েছে, বিলোনিয়ার ভারত চন্দ্র ব্লকের উত্তর কলাবাড়িয়া গ্ৰাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা উত্তম পাল। উত্তম পালের মায়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান আগামী বুধবার। উত্তম পাল এই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের নিমন্ত্রনের জন্য সাত বছরের ছেলে জয়দীপকে বাইকে বসিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। নিমন্ত্রন সেরে বাইক চেপে বড়পাথরী গর্জনিয়া বিএসএফ ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় আসতেই একটি গাড়ীকে ওভার টেক করতে গিয়ে বিলোনিয়ার দিক থেকে আসা জেলা শাসকের গাড়ির সাথে সজোরে ধাক্কা লাগে। এই ধাক্কায় বাইক চালক উত্তম পাল সহ বাইকের পেছনে বসা ছেলে জয়দীপ পাল ছিটকে পড়ে যায়। এরফলে ছেলে জয়দীপ পালের মাথা থেতলে যায় ও উত্তম পাল গুরুত্বতর আহত হয়।
সাথে সাথে দক্ষিণ জেলা শাসকের নির্দেশে স্কট গাড়ি করে আহতদের নিয়ে আসা হয় বিলোনিয়া হাসপাতালে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক উত্তম পালের ছেলে জয়দীপ পালকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর মৃত বলে ঘোষণা করেন। পাশাপাশি আহত উত্তম পালকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আগরতলা জিবি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে দেয়। জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে উত্তম পালের।
