iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1=3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0"frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe
Tripura

হোস্টেল নির্মাণ কাজে চাঁদাবাজি, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ উত্তর মহারানীপুরে

তেলিয়ামুড়া, ৩০ জুন : খোয়াই জেলার কল্যাণপুর থানাধীন উত্তর মহারানীপুরে সরকারি ছাত্রীনিবাস নির্মাণ কাজে হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ঘিরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শাসকদল বিজেপির খোয়াই জেলা জনজাতি মোর্চার সহ-সভাপতির প্রত্যক্ষ নেতৃত্বেই এই হামলা সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও প্রশাসনের নীরব ভূমিকার প্রতিবাদে সোমবার পথ অবরোধে নামেন এলাকাবাসী।

হামলার ঘটনাটি ঘটে ২১ জুন দুপুর ২টা নাগাদ। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে বলারাম কোবরা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নির্মীয়মাণ ‘এসটি গার্লস হোস্টেল’-এর কাজে নিয়োজিত ছিলেন নির্বাচিত ঠিকাদার বিক্রম দেববর্মা। অভিযোগ, কাজ শুরু করার কিছুক্ষণ পরই দুই ব্যক্তি— সীতেশ দেববর্মা (পিতা: পরেন্দ্র দেববর্মা, নক্সিরাই পাড়া) এবং প্রণজিত দেববর্মা ওরফে প্রনয় (পিতা: সুবোধ দেববর্মা, উত্তর মহারানীপুর বাজার)— নির্মাণস্থলে এসে রড ও ছুরি দেখিয়ে শ্রমিকদের ভয় দেখায়, চাঁদা দাবি করে এবং কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলে তাদের উপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত হন কয়েকজন শ্রমিক। ঘটনার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়।

উল্লেখ্য, অভিযোগপত্রে প্রণজিত দেববর্মার রাজনৈতিক পরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। তিনি খোয়াই জেলা বিজেপি জনজাতি মোর্চার সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

এই অবস্থায়, ঘটনার ৯ দিন পরেও প্রশাসনের নীরবতা ও কার্যত নিষ্ক্রিয়তা ঘিরে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সোমবার সকাল থেকেই উত্তর মহারানীপুরে প্রধান সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামে সাধারণ মানুষ। তাঁদের দাবিগুলির মধ্যে ছিল— অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার, নির্মাণকাজ পুনরায় চালু, হোস্টেল দ্রুত কার্যকর করা এবং নির্মাণস্থলে স্থায়ী পুলিশি নিরাপত্তা মোতায়েন।

অবরোধস্থলে ছুটে আসেন তেলিয়ামুড়া মহকুমার অতিরিক্ত মহকুমা শাসক ও মহকুমা পুলিশ আধিকারিক। সঙ্গে ছিল বিপুল পুলিশবাহিনী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরুর আশ্বাস দেওয়ায় অবরোধ তুলে নেয় স্থানীয়রা। তবে তাঁদের বক্তব্য, “যদি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে আমরা বাধ্য হব।”

এদিকে নির্মাণাধীন হোস্টেলে ইতিমধ্যেই ছাত্রীরা ভর্তি হলেও, নিরাপত্তার অভাবে কাজ বন্ধ হয়ে থাকায় হোস্টেল চালু করা যাচ্ছে না। ফলে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বহু আদিবাসী ছাত্রী।

অভিযোগের অনুলিপি ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী, উপজাতি কল্যাণ মন্ত্রী, টিটিএএডিসি’র মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন গোটা উত্তর মহারানিপুরবাসীর প্রশ্ন— আইন কি রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করবে নাকি সুষ্ঠু প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ন্যায় প্রতিষ্ঠা পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *