iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1=3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0"frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe
Lead News

বিলোনিয়ায় একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করে ত্রিপুরার অগ্রগতির কথা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী

বিলোনিয়া, ৩১ জানুয়ারি : শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও শিল্প-বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই ত্রিপুরা দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে চলেছে। উন্নয়নের নিরিখে রাজ্য ইতিমধ্যেই দেশের মধ্যে একটি বিশেষ অবস্থান অর্জন করেছে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। শনিবার দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিলোনিয়া বিদ্যাপীঠ মাঠে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন ও শিলান্যাস করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে বিলোনিয়া মহকুমার রাজনগর এলাকায় নিহারনগর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের নবনির্মিত পাকা ভবনের দ্বারোদঘাটন করেন। প্রায় ৬ কোটি ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে এই ভবন। পরে তিনি ঘোষখামার দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের নবনির্মিত পাকা ভবনের দ্বারোদঘাটন করেন, যা নির্মিত হয়েছে ৯ কোটি ৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে। পাশাপাশি বিলোনিয়া ইংরেজি মাধ্যম দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের নবনির্মিত পাকা ভবনের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৩ লক্ষ টাকা।

ঘোষখামার দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল যাতে প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। রাজনগর এলাকায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তাঘাট, পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও শিক্ষা পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা হচ্ছে। তিনি জানান, উন্নয়নের স্বীকৃতিস্বরূপ ত্রিপুরা ইতিমধ্যেই ৩৪৭টি পুরস্কার অর্জন করেছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন নতুন বিদ্যালয় স্থাপন, স্মার্ট ক্লাস, ডিজিটাল লাইব্রেরি নির্মাণ ও ছাত্রছাত্রীদের স্টাইপেন্ড প্রদান করা হচ্ছে। নয়া শিক্ষানীতির আলোকে এস.সি.ই.আর.টি.-এর মাধ্যমে নতুন কোর্স চালু হয়েছে। ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে গুণগত শিক্ষা প্রদানের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিদ্যালয় হলো মন্দির। শিক্ষকদের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।” তিনি আরও বলেন, স্বচ্ছ নিয়োগনীতির মাধ্যমে টেট-এর সাহায্যে শিক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে এবং পি.এম-শ্রী ও বিদ্যাজ্যোতি স্কুল স্থাপন করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ৪৩৫টি বিদ্যালয়ে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। খেলাধুলার মানোন্নয়নে নতুন মাঠ তৈরি করা হচ্ছে এবং মহকুমা স্তর থেকেই ক্রীড়া প্রতিভা তুলে আনা হচ্ছে। নেশামুক্ত ত্রিপুরা গঠনে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি সামাজিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও অভিভাবকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বিলোনিয়া ইন্ডোর ক্রিকেট অনুশীলন শেডের উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি জিরানিয়া ও কৈলাসহর ইন্ডোর ক্রিকেট অনুশীলন কেন্দ্রের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করা হয়। বিলোনিয়া বিদ্যাপীঠ মাঠে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা ভিত্তিক নেশামুক্ত প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের ফাইনাল ম্যাচেরও উদ্বোধন করেন তিনি। সাতচাঁদ ও ঋষ্যমুখ একাদশের মধ্যে ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী বিলোনিয়ার বনকরে বিদ্যাসাগর মাছ ও সবজি বাজারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রায় ২১ কোটি ৪ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে এই বাজার নির্মিত হবে। এছাড়াও বিলোনিয়ায় একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে সমবায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার ২১টি একলব্য বিদ্যালয় সহ একাধিক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প রূপায়ণ করছে।

এদিন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকার জন্য নীরালতা ত্রিপুরাকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও এস.এস.সি (জি.ডি.) জে.এ.জি.আর.এ.টি.-এর কয়েকজন সদস্যকেও সংবর্ধিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক স্বপ্না মজুমদার, প্রমোদ রিয়াং, মাইলায়ু মগ, অশোক মিত্র, দীপঙ্কর সেন, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত, সহকারী সভাধিপতি তপন চন্দ্র দেবনাথ, জেলাশাসক সাজাদ পি, পুলিশ সুপার মৌর্যকৃষ্ণ সি, বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের সচিব ড. মিলিন্দ রামটেক, অধিকর্তা এন.সি. শর্মা সহ অন্যান্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *