সাব্রুমে বিদেশি জারবেরা ফুল চাষে সাফল্যের স্বপ্ন, নতুন দিশা দেখাচ্ছেন কৃষক মিঠুন নাথ
সাব্রুম , ৭ মে : দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুম মহকুমার সাতচাঁদ এগ্রি সাবডিভিশনের অন্তর্গত ব্রজেন্দ্রনগরের জনৈক প্রান্তিক কৃষক এবার বিদেশি ফুল চাষে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত খুলে দিয়েছেন। সরকারি সহায়তা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে জারবেরা ফুল চাষ শুরু করে আশার আলো দেখছেন কৃষক মিঠুন নাথ।
ত্রিপুরা সরকারের উদ্যানপালন ও মৃত্তিকা সংরক্ষণ বিভাগের উদ্যোগে “মিশন ফর ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অফ হর্টিকালচার ২০২৪-২৫” প্রকল্পের আওতায় এই আধুনিক ফুল চাষের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। ২০০ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে নির্মিত সুরক্ষিত কাঠামোর মধ্যে প্রায় ১২০০টি জারবেরা ফুলের চারা রোপণ করা হয়েছে। গোটা প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ৩ লক্ষ ৯৯ হাজার ২৮১ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে ত্রিপুরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং কারিগরি কাজের দায়িত্ব পালন করছে ব্যাঙ্গালোরের ফ্লোরেন্স ফ্লোরা মার্কেটিং সংস্থা। গত ২০ নভেম্বর ২০২৫ সালে ফুল বাগান তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়।
বর্তমানে কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিকল্প আয়ের উৎস তৈরির লক্ষ্যে রাজ্য সরকার যেভাবে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করছে, তার সুফল পাচ্ছেন বহু প্রান্তিক কৃষক। বিশেষ করে জারবেরার মতো বিদেশি ফুলের বাজারমূল্য তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি হওয়ায় ভবিষ্যতে এই চাষ মিঠুন নাথের আর্থিক স্বাবলম্বিতার বড় হাতিয়ার হয়ে উঠবে বলে আশাবাদী স্থানীয় মানুষজন।
সাতচাঁদ এগ্রি সাবডিভিশনের সুপারেনটেন্ড মনোহর দাস জানান, বর্তমান সময়ে কৃষকদের প্রচলিত ধান বা সবজি চাষের বাইরে এসে উচ্চমূল্যের বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। জারবেরা ফুলের চাহিদা রাজ্যের পাশাপাশি বাইরের বাজারেও রয়েছে। সঠিক পরিচর্যা এবং বিপণন ব্যবস্থা থাকলে এই ফুল চাষ কৃষকদের আয়ের নতুন পথ খুলে দিতে পারে।
কৃষক মিঠুন নাথ জানান, সরকারি সহায়তা এবং প্রযুক্তিগত পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের আধুনিক ফুল চাষ শুরু করা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। তিনি আশা করছেন, আগামী দিনে জারবেরা ফুল বিক্রি করে ভালো আয় করতে পারবেন এবং অন্য কৃষকরাও এই ধরনের উদ্যোগে উৎসাহিত হবেন।
এলাকার বাসিন্দাদের মতে, এই প্রকল্প শুধু একজন কৃষকের জীবনে পরিবর্তন আনবে না, বরং গ্রামের বহু যুবক-যুবতীকেও আধুনিক কৃষি ও ফুল চাষের প্রতি আকৃষ্ট করবে। সরকারি সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং বাজারমুখী পরিকল্পনার সমন্বয়ে দক্ষিণ ত্রিপুরায় ধীরে ধীরে আত্মনির্ভর কৃষির নতুন দিগন্ত গড়ে উঠছে বলেও মত প্রকাশ করেন তাঁরা।
