iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1=3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0"frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe
Tripura

পাঁচ বছর পর কুর্তি হাওরে ফিরল নৌকা বাইচের উন্মাদনা, হাজারো দর্শকের ঢল

কদমতলা, ১১ জুন : দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর উত্তর ত্রিপুরা জেলার ৫৪ নং কদমতলা-কুর্তি বিধানসভা এলাকার ঐতিহ্যবাহী কুর্তি হাওরে অনুষ্ঠিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে হাওরপাড় জুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

স্থানীয়দের মতে, একসময় কুর্তি হাওরের নৌকা বাইচ ছিল এলাকার অন্যতম প্রধান গ্রামীণ বিনোদন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। কিন্তু বিভিন্ন কারণে কয়েক বছর ধরে এই আয়োজন বন্ধ ছিল। স্থানীয় বিধায়ক ইসলাম উদ্দিনের উদ্যোগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্য আবারও নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

এদিনের প্রতিযোগিতায় মোট চারটি নৌকা অংশগ্রহণ করে। মধ্যরাজনগর, কালাগাঙ্গের পার এলাকার দুটি দল এবং কুর্তি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একটি দলসহ চারটি প্রতিযোগী দল নিজেদের দক্ষতা, শারীরিক সামর্থ্য ও দলগত সমন্বয়ের অনন্য প্রদর্শন করে। প্রতিযোগিতার প্রতিটি পর্বেই দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। হাওরের দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ প্রতিযোগীদের উৎসাহিত করেন।

প্রতিযোগিতার অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন বিধায়ক ইসলাম উদ্দিন। তিনি নিজে দীর্ঘ সময় একটি নৌকায় অবস্থান করে পুরো প্রতিযোগিতা তদারকি করেন। প্রতিযোগিতা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় যুবনেতা জহুরুল হক-সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক ইসলাম উদ্দিন বলেন, “গ্রামীণ সমাজের হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি যুবসমাজকে নেশার গ্রাস থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী বছর আরও বৃহৎ পরিসরে এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, গ্রামের ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায় এবং নতুন প্রজন্ম নিজেদের শিকড় ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফির পাশাপাশি নগদ ২ হাজার টাকা প্রাইজমানি তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দলকেও উৎসাহমূলক সম্মাননা প্রদান করা হয়।

আয়োজকদের আশা, কুর্তি হাওরের এই নৌকা বাইচ আগামী দিনে উত্তর ত্রিপুরার অন্যতম জনপ্রিয় গ্রামীণ উৎসবে পরিণত হবে। একই সঙ্গে এটি নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গ্রামীণ সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তাঁরা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *