iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1=3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0"frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe
Tripura

নভেম্বর বিপ্লবের চেতনায় পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ ধ্বংসের লড়াই তীব্র করার আহ্বান মানিক সরকারের

আগরতলা, ৭ নভেম্বর : মহান নভেম্বর বিপ্লবের ঐতিহাসিক সাফল্য ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের আধিপত্য ধ্বংসের মধ্য দিয়ে শ্রেণিহীন, শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার সংগ্রাম আরও তীব্র করে তোলার আহ্বান জানালেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিআইএম-এর বরিষ্ঠ  নেতা মানিক সরকার। তাঁর বক্তব্য, নভেম্বর বিপ্লবের সাফল্য শুধু অতীতের ইতিহাসের বিষয় নয়, বরং বর্তমান সময়েও শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা। সেই চেতনাকে সামনে রেখেই আগামী দিনের আন্দোলন ও সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

শনিবার ৭ নভেম্বর, ঐতিহাসিক মহান নভেম্বর বিপ্লব দিবস। এ বছর এই ঐতিহাসিক বিপ্লবের ১০৯তম বার্ষিকী। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষ্যে সিপিআইএম ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির উদ্যোগে রাজধানী আগরতলার মুক্তধারা প্রেক্ষাগৃহে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী, সিপিআইএম পশ্চিম জেলা সম্পাদক রতন দাস সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব ও কর্মীরা।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মানিক সরকার মহান নভেম্বর বিপ্লবের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, তাৎপর্য এবং বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে এই বিপ্লবের প্রাসঙ্গিকতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর দীর্ঘ ৩৫ বছর অতিক্রান্ত হলেও সাম্রাজ্যবাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ হয়নি। বরং বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদী আধিপত্য ক্রমশ নানা সংকটের মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে নভেম্বর বিপ্লবের ঐতিহাসিক সাফল্যকে স্মরণ করার মধ্যেই নিজেদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না।

তাঁর কথায়, মহান নভেম্বর বিপ্লব বিশ্ব ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছিল। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই বিপ্লবের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বর্তমান সময়েও সেই আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করে পুঁজিবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। শ্রেণিহীন ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলনকে আরও তীব্র ও সংগঠিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীও নভেম্বর বিপ্লবের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বর্তমান প্রাসঙ্গিকতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। অন্যান্য বক্তারাও বিপ্লবের আদর্শ, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামে বামপন্থী আন্দোলনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।

ঐতিহাসিক নভেম্বর বিপ্লব দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে সিপিআইএম নেতৃত্ব বিশ্বজুড়ে শোষণ, বৈষম্য ও সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিপ্লবের আদর্শকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *