পেঁচারথলে নাইট সুপার থেকে ১৭৯০ শিশি এসকফ সিরাপ উদ্ধার, গ্রেফতার চালক
পেঁচারথল, ২১ জুন : ত্রিপুরায় উদ্ধার বিপুল পরিমাণে অবৈধ কফ সিরাপ। গুয়াহাটি থেকে আসা একটি বাস থেকে পেঁচারথল থানার পুলিশ এই কফ সিরাপের শিশি বাজেয়াপ্ত করেছে। গ্রেফতার করা হয়েছে বাস চালক বাপি দাসকে।
একদিকে চলছে নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার স্লোগান, অন্যদিকে বহিঃরাজ্য থেকে অহরহ নেশা জাতীয় দ্রব্য রাজ্যে ঢুকছে। এবারে ত্রিপুরায় ঢুকতেই একটি যাত্রিবাহী বাস থেকে উদ্ধার করা হল বিপুল পরিমাণ এসকফ কফ সিরাপ। শনিবার দুপুরে এই সাফল্য পায় পেঁচারথল থানার পুলিশ।
মহকুমা পুলিশ আধিকারিক উৎপলেন্দু দেবনাথ জানিয়েছেন, পুলিশের কাছে আগাম খবর ছিল অসম থেকে অবৈধ নেশা সামগ্রী ঢুকবে ত্রিপুরায়। আর তাতেই পেঁচারথল থানার নাকা পয়েন্টে ওৎ পেতে বসে থাকে পুলিশ। শনিবার দুপুর নাগাদ এএস০১ এলসি ১৪১২ নম্বরের আগরতলাগামী বাসটি আসতেই তার গতিরোধ করে পুলিশ। গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গোপন চেম্বার থেকে উদ্ধার হয় ১৭৯০ শিশি এসকফ কফ সিরাপ। এসডিপিও জানান, উদ্ধার হওয়া কফ সিরাপের কালোবাজারি মূল্য আনুমানিক নয় লক্ষ টাকা হবে। সাথে আটক করা হয়েছে আগরতলার গাড়ি চালক বাপি দাসকে।
মহকুমা পুলিশ আধিকারিক আরও জানান, গাড়িটি গুয়াহাটি থেকে আগরতলার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল এবং গাড়িতে যাত্রীর বদলে অধিকাংশই ভর্তি ছিল পন্য সামগ্রীতে। এককথায় নেশাদ্রব্য পাচারের উদ্দেশ্যেই ব্যাবহার করা হয়েছিল গাড়িটি। এবিষয়ে এনডিপিএস আইনে একটি মামলা নিয়েছে পেঁচারথল থানার পুলিশ।
উল্লেখ্য, বহিঃরাজ্য তথা অসম থেকে ত্রিপুরায় প্রবেশের ক্ষেত্রে রাজ্যের প্রবেশদ্বার চুড়াইবাড়ি থানার নাকায় কড়া পুলিশি প্রহরা পেরিয়ে ঢুকতে হয় ত্রিপুরায়। কিন্তু যাত্রীবাহী বাসে পন্যসামগ্রী বোঝাইয়ের আড়ালে বিপুল পরিমাণ নেশাদ্রব্য কিভাবে অন্যসব থানা অতিক্রম করল সেটাই প্রশ্ন জনমনে।
প্রসঙ্গত, যখন নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার স্লোগান জোড়ালো করছে বর্তমান সরকার তখনই এভাবে নেশা সামগ্রী ঢুকছে রাজ্যে। কখনো তা ধরা পড়ছে পুলিশের জালে, কখনো পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কিংবা একাংশকে মেনেজ করে রাজ্যে নেশার কারবারের শ্রীবৃদ্ধি করে চলেছে নেশা কারবারীরা।
