ভূয়া চিকিৎসার নামে দেড় লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, থানায় মামলা
বক্সনগর, ৪ জুলাই : গ্রামীণ অঞ্চলে এখনও অনেক মানুষ চিকিৎসকদের ভগবানের মতো শ্রদ্ধা করেন। সেই বিশ্বাসকে পুঁজি করেই এক সনামধন্য চিকিৎসক ভুয়া চিকিৎসার নাম করে দেড় লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ।এই অভিযোগে সিপাহীজলা জেলার বাঁশপুকুর এলাকার মামুন মিয়া নামে এক কৃষক যাত্রাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারী মামুন মিয়া জানান, তাঁর একমাত্র পুত্র চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। তার বয়স সাড়ে নয় বছর। গত ২০ মার্চ খেলতে গিয়ে ডান পায়ে কাঁটা ঢুকিয়ে ফেলে। বাড়িতে এক সপ্তাহ রেখে ২৭ মার্চ ছেলেকে আগরতলার গণরাজ চৌমুহনীতে ডাঃ অজয় সাহার চেম্বারে নিয়ে যান।
সেখানে ডাঃ অজয় সাহা জানান অবস্থা গুরুতর। অপারেশন করতে হবে। ভর্তি করাতে হবে হাঁপানিয়াস্থিত ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এরপর ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। টানা দুই মাস চিকিৎসা চলে। এই সময়ে মামুন মিয়া তাঁর গৃহস্থালির সম্পত্তি, এমনকি গরু পর্যন্ত বিক্রি করে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা ডাক্তারের কাছে দেন।
ডাক্তার অপারেশন হয়েছে বলে জানান এবং ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে বাড়ি ফিরে ১৫ দিন পরও ছেলের পায়ের অবস্থার উন্নতি না হওয়ায়, তাঁরা আবার ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি পুনরায় অপারেশনের পরামর্শ দেন। এতে সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা ছেলেকে গুয়াহাটির একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। যেখানে কম খরচে সফলভাবে অপারেশন করে পায়ের কাঁটা বের করে ফেলা হয়। বর্তমানে ছেলেটি সুস্থ।
মামুন মিয়া বলেন, “একজন কৃষক হিসেবে আমার জন্য দেড় লক্ষ টাকা খুব বড় অঙ্ক। একজন ডাক্তার কীভাবে এতটা প্রতারণা করতে পারেন। আমি এই অর্থ ফেরতের দাবি করছি এবং যাত্রাপুর থানায় ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।”
এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, চিকিৎসা পেশার আড়ালে এমন প্রতারণা কতদিন চলবে। তদন্ত করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলছেন এলাকাবাসী।
