অপরাধ জনিত মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া বিজ্ঞানভিত্তিক হোক : মুখ্যমন্ত্রী
আগরতলা, ২০ জুলাই : ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে সারা দেশের সাথে ত্রিপুরায়ও তিনটি নতুন আইন প্রযোজ্য হয়েছে। এগুলি হল ইন্ডিয়ান পেনাল কোড বা আইপিসির বদলে ভারতীয়র ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস। সিআরপিসির বদলে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা বা বিএনএসএস এবং ইন্ডিয়ান এভিডেন্স অ্যাক্ট এর বদলে বিএসএ বা ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম। চলতি বছরে এক বছর পূর্ণ হয়েছে নতুন তিনটি আইন প্রয়োগের।
এই এক বছরে পুলিশের তদন্তকার্যে এবং বিচার প্রক্রিয়ায় কি কি সুবিধা হয়েছে এবং অসুবিধাগুলি কোথায় সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে রবিবার আগরতলায় প্রজ্ঞা ভবনে এক কর্মশালার আয়োজন করে ত্রিপুরা পুলিশ। এই কর্মশালার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ ধ্যানকর, মুখ্য সচিব জে কে সিনহা, স্বরাষ্ট্র সচিব সহ রাজ্য পুলিশের অন্যান্য আধিকারিকরা।
এই কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের কর্মশালা অত্যন্ত সময়োপযোগী। এই কর্মশালা অপরাধ সংক্রান্ত ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া এবং বিচার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অপরাধজনিত ঘটনার তদন্ত করে পুলিশ। এই তদন্তকার্যে গ্রেফতার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু গ্রেফতার মানেই সাজা নয়।মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অপরাধজনিত আইনগুলিকে শক্তিশালী করতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন তিনটি আইন চালু করেছেন। তিনি বলেন, অপরাধজনিত ঘটনার তদন্তে অন্যান্য দফতরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া আরও বিজ্ঞানভিত্তিক হোক এমনটাই চান মুখ্যমন্ত্রী।
কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ ধ্যানকর। তিনিও জানান, অপরাধজনিত ঘটনার তদন্তে অন্যান্য দফতরগুলির ভূমিকাও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রসঙ্গে মেডিকেল অফিসারের রিপোর্ট, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট, মেডিকেল এক্সপার্টদের রিপোর্ট সঠিক তদন্তের গতিপথ নির্ণয়ে ভূমিকা গ্রহণ করে। পুলিশের মহানির্দেশক আর বলেন, বিচার প্রার্থীদের বিচার পাইয়ে দেওয়া এবং অপরাধজনিত ঘটনায় সাজা প্রাপ্তির হার বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে পুলিশের তদন্তের মূল ভিত্তি হোক বিজ্ঞানভিত্তিক।
