iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1=3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0"frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe
Tripura

আগরতলায় পুর নিগমের উচ্ছেদ অভিযানে তীব্র বিতর্ক

আগরতলা, ৪ ফেব্রুয়ারি : পরিষ্কার ফুটপাত ও নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগরতলা পুর নিগম (এএমসি)-এর উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে শহরজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বুধবার ভোর থেকে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চালানো এই অভিযানে রাস্তার ধারের হকারদের উচ্ছেদ ও অবৈধ পার্কিং-এর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে এই উদ্যোগ দ্রুতই রূপ নেয় জীবিকা বনাম নগর শৃঙ্খলার সংঘাতে।

আগেই মেয়র দীপক মজুমদার ঘোষণা করেছিলেন, ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকনাহীন ড্রেনের উপর বা রাস্তার ধারে কোনও গাড়ি পার্ক করা যাবে না এবং রাস্তার ব্যবসা চালাতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে ভেন্ডিং লাইসেন্স থাকতে হবে। সেই নির্দেশ কার্যকর করতেই এএমসি-এর টাস্ক ফোর্স সকাল থেকেই অভিযান শুরু করে, ফুটপাত পরিষ্কার করে ও একাধিক গাড়ি জব্দ করে।

কিন্তু বিতর্ক দানা বাঁধে যখন একাধিক হকার অভিযোগ করেন, বৈধ লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও তাঁদের স্টল উচ্ছেদ করা হয়েছে। ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের দাবি, কোনও যাচাই ছাড়াই তাঁদের দোকান সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি-সমর্থিত হকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি বিপ্লব কর এই ঘটনাকে হয়রানি বলে অভিহিত করে বলেন, “দৈনিক আয়ের উপর নির্ভরশীল দরিদ্র পরিবারগুলির সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে।”

অভিযান নিয়ে শহরবাসীর প্রতিক্রিয়া বিভক্ত। একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই ফুটপাত দখল ও রাস্তার ধারে অবৈধ পার্কিংয়ের ফলে যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। বটতলা এলাকার এক যাত্রী বলেন, “প্রতিটি মোড়ে যানজট আর বিশৃঙ্খলা লেগেই থাকত।” তবে অন্যদিকে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন অভিযানের ন্যায্যতা ও মানবিক দিক নিয়ে। তাঁদের দাবি, উচ্ছেদের পাশাপাশি হকারদের জন্য নির্দিষ্ট ভেন্ডিং জোনের ব্যবস্থা করা জরুরি।

অভিযানের স্থায়িত্ব নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন নাগরিকরা। মহারাজগঞ্জ বাজার এলাকার এক বাসিন্দার বক্তব্য, “এ ধরনের অভিযান কিছুদিন চলে, তারপর সব আগের মতো হয়ে যায়।” দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর নজরদারির অভাব নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

এদিকে মেয়র দীপক মজুমদার পুনরায় স্পষ্ট করেছেন, ফুটপাত পথচারীদের জন্য এবং রাস্তা যানবাহনের চলাচলের জন্যই থাকা উচিত। তবে পাশাপাশি পুনর্বাসনের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। অনেক নাগরিকের প্রস্তাব, পুরানো টিআরটিসি কমপ্লেক্সের মতো জায়গায় হকারদের স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হোক।

এই পরিস্থিতিতে আগরতলা এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে—পরিষ্কার ও নিরাপদ শহরের স্বপ্ন এবং রাস্তার ধারের ব্যবসার উপর নির্ভরশীল হাজার হাজার পরিবারের বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। লাইসেন্সপ্রাপ্ত হকারদের উচ্ছেদের অভিযোগ নিয়ে এএমসি-এর পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি, ফলে বিতর্ক আরও তীব্র আকার নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *