প্রতিশ্রুতি আছে, রাস্তা নেই—কাঁকড়াবনে নিজ উদ্যোগে রাস্তা সারাইয়ে নামলেন জনগণ
উদয়পুর, ৪ জানুয়ারি: ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাসের বন্যা থাকলেও, কাজের সময় জনপ্রতিনিধিদের দেখা মেলে না—এই অভিযোগ তুলে গোমতী জেলার কাঁকড়াবন বিধানসভার গর্জনমুড়া ১১ নম্বর বুথের ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দারা নিজেরাই রাস্তা সংস্কারের কাজে নেমে পড়লেন।
কাঁকড়াবন বিধানসভার অন্তর্গত গর্জনমুড়া ১১ নম্বর বুথ, ওয়ার্ড নম্বর ৭-এর ঘোষপাড়া এলাকায় প্রায় ১৪০০ ভোটার ও ৪০০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বেহাল রাস্তার সমস্যায় ভুগছেন। বছরের পর বছর ধরে কাদা, জলজট, গর্ত আর ধুলোয় ভরা এই রাস্তা দিয়ে চলাচল কার্যত দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে। বর্ষাকালে জল জমে রাস্তা একেবারে অচল হয়ে পড়ে, আবার শুকনো দিনে ধুলোর ঝড়ে নাভিশ্বাস ওঠে সাধারণ মানুষের।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, বাম আমল থেকে শুরু করে বর্তমানের বিজেপি—সরকার বদলালেও বদলায়নি ঘোষপাড়ার রাস্তার দুর্দশা।রোগী, গর্ভবতী মহিলা ও স্কুলপড়ুয়া শিশুদের জন্য এই রাস্তা যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা প্রতিদিনই চোখে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাধিকবার এলাকার বিধায়ক ও গর্জনমুড়া পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই মিলেছে কেবল আশ্বাস, বাস্তবে কোনও কাজ হয়নি।
শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের নীরবতা ও জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। বাধ্য হয়েই তাঁরা নিজেরাই রাস্তা মেরামতের কাজে হাত লাগান। যে দায়িত্ব সরকারের ও জনপ্রতিনিধিদের, সেই কাজ সাধারণ মানুষকে করতে হয় কেন, প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা—এটাই কি উন্নয়নের বাস্তব ছবি?
ঘোষপাড়ার বাসিন্দাদের স্পষ্ট বক্তব্য, রাস্তা সংস্কার এখন আর কোনও অনুগ্রহ বা প্রতিশ্রুতির বিষয় নয়, এটি তাঁদের নাগরিক অধিকার। আর যদি আজও জনপ্রতিনিধিরা এই দাবিকে উপেক্ষা করেন, তবে আগামী দিনে এই ক্ষোভ আরও বড় আন্দোলনের রূপ নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন এলাকাবাসী।
