খোয়াইয়ে দ্রুতগতির বাইকের ধাক্কায় প্রাণ গেল যুবকের, আহত তিন বাইক আরোহী পলাতক
খোয়াই, ৮ মে : ছোট বোনের আবদার মেটাতে টিফিন কিনতে গিয়েছিল কলেজ পড়ুয়া যুবক সঞ্জীব দেব। কিন্তু সেই টিফিন আর পরিবারের সঙ্গে বসে খাওয়া হল না তাঁর। বাড়ি ফেরার পথেই দ্রুতগতির বাইকের ধাক্কায় মর্মান্তিক মৃত্যু হল ওই যুবকের। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে খোয়াইয়ের সমতল পদ্মবিল এলাকায়।
জানা গেছে, মৃত সঞ্জীব দেব খোয়াই কলেজের ছাত্র ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক অভাব দূর করতে বাবার সঙ্গে দিনমজুরের কাজও করত সে। অত্যন্ত শান্ত ও পরিশ্রমী ছেলে হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিল সঞ্জীব।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছোট বোন টিফিন খাওয়ার আবদার করে। এরপর পরিবারের সবার জন্য পাড়ার একটি দোকান থেকে টিফিন আনতে বাড়ি থেকে বের হয় সঞ্জীব। টিফিন নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় সমতল পদ্মবিল এলাকায় একটি দ্রুতগতির বাইক পিছন দিক থেকে তাঁকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার জেরে সঞ্জীব রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর জখম হয়।
স্থানীয়দের দাবি, বাইকটিতে তিন যুবক ছিল। দুর্ঘটনার পর তাঁরাও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে এলাকাবাসীরা ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে খোয়াই জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে সঞ্জীবের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাঁকে আগরতলার জিবি হাসপাতালে রেফার করেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় সঞ্জীব দেবের।
শুক্রবার জিবিপি হাসপাতালের মর্গের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃতের আত্মীয়-পরিজনেরা। জনৈক নিকট আত্মীয় জানান, “বোনের জন্য টিফিন আনতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হল না সঞ্জীবের। মুহূর্তের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল।”
এদিকে দুর্ঘটনায় আহত তিন বাইক আরোহীকেও খোয়াই জেলা হাসপাতাল থেকে জিবিপি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে সেখানে সঞ্জীবের আত্মীয়দের ভিড় দেখে আতঙ্কিত হয়ে তাঁরা হাসপাতাল থেকেই পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বেপরোয়া বাইক চালানোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং পলাতক বাইক আরোহীদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
