বড়দোয়ালীতে ভাড়া বাড়িতে গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার, স্বামীর অভিযোগ পরকীয়ার জেরেই ঘটনা
স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ৯ সেপ্টেম্বর।। রাজধানী আগরতলা শহরের বড়দোয়ালী এলাকায় ভাড়াবাড়িতে এক গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কিভাবে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে এনিয়ে রয়েছে রহস্য। মৃতার বাবার অভিযোগ স্বামী পরিকল্পিতভাবে অন্য লোক দিয়ে এই মেয়েকে হত্যা করিয়েছে। অন্যদিকে স্বামীর বক্তব্য স্ত্রীর অন্য দুয়েকজন পুরুষের সাথে সম্পর্ক ছিল। হয়তো এর পেছনে পরকীয়া থাকতে পারে। যদিও ঘটনার সময় স্বামী বাড়িতেই ছিলেন না।
সংবাদে প্রকাশ, আগরতলায় বড়দোয়ালী এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন অজিত বিশ্বস ও তার স্ত্রী পাপিয়া বনিক। তাদের সন্তানও রয়েছে। শনিবার সকালে ভাড়া বাড়িতে পাপিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার হয় বিছানায়। পাশেই সিলিং ফেনের সাথে একটি কাপড় ঝোলানো অবস্থায় রয়েছে। গলায় ফাঁস লাগানো ছিল না। বিছানাতেই শায়িত অবস্থায় পড়ে রয়েছে মৃতদেহ। মৃতদেহের অবস্থান দেখে সকলেরই অনুমান এটি আত্মহত্যার ঘটনা নয়। পরিকল্পিত হত্যা।
মৃতার বাবা অভিযোগ করেছেন স্বামী অজিত বিশ্বাস অন্য লোক দিয়ে পাপিয়াকে হত্যা করিয়েছে। কারণ অজিত শুক্রবার বিলোনিয়াতে ছিল। আগরতলায় বড়দোয়ালী ভাড়া বাড়িতে আসেনি। মৃতার বাবার আরও অভিযোগ বিয়ের পর থেকেই টাকা পয়সার জন্য নির্যাতন করত পাপিয়াকে। টাকা পয়সা নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে বনিবনা ছিল না অজিতের। এজিত শান্তিরবাজারে স্টোর কিপার পদে কর্মরত। স্ত্রী পাপিয়াকে প্রায় সময় বাপের বাড়ি থেকে টাকা পয়সা নিয়ে আসর জন্য নির্যাতন করত।
এদিকে, স্বামী অজিত বিশ্বাস জানিয়েছেন আজ সকালে তিনি বিলোনিয়া থেকে আগরতলায় ভাড়া বাড়িতে এসে স্ত্রীর মৃতদেহ দেখতে পান। তার সাথে শ্বশুরবাড়ির লোকজনও ছিল। তারা একসাথেই এসে দেখেন মৃতদেহ। তিনি এই ব্যাপারে আর কিছুই জানেন না। রাতে তিনি স্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন। স্ত্রী গতকালই বিলোনিয়া থেকে আগরতলায় আসে। সন্ধ্যা নাগাদ কথা হয়েছিল স্ত্রীর সাথে। তারপর আর কথা হয়নি। আজ মৃতদেহ দেখে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করছেন যে এটি আত্মহত্যার ঘটনা নয়। ঘরে মাংস রান্নার জন্য যাবতীয় আয়োজন করা হয়েছিল। সবকিছু পড়ে রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে কেউ ভাড়াবাড়িতে এসেছিল। স্বামী অজিত বিশ্বাসের অভিযোগ স্ত্রী পাপিয়া মোবাইলে অন্য দুয়েকজন পুরুষের সাথে কথাবার্তা বলত। তার রেকর্ডিংও রয়েছে। প্রয়োজনে পুলিশকেও তিনি দিতে পারেন।
অন্যদিকে, মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পশ্চিম আগরতলা মহিলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। এই ব্যাপারে পশ্চিম আগরতলা মহিলা থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নেয়া হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আগরতলায় বড়দোয়ালী এলাকায় মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
