জনজাতিদের বিকাশ করতে গিয়ে নাভিশ্বাস মন্ত্রী বিকাশের
কালের আলো, আগরতলা, ২৭ অক্টোবর৷৷ একটা সময় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলতেন পাহাড় যার ত্রিপুরা তার৷ বিধানসভার জনজাতি সংরক্ষিত আসনগুলি যে দলের কব্জায় থাকে সেই দলই নাকি ত্রিপুরার ক্ষমতার মসনদ দখল করতে পারে৷ সেই বিচার বিশ্লেষণ দিনেদিনে আরও গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে৷ পাহাড়ে তিপ্রা মথা ঘাঁটি তৈরী করে রেখেছে৷ অন্যদিকে বিজেপির জনজাতি মোর্চাব প্রভাব তেমন নেই৷ আর এই সুযোগকে কাজে লাগাতে বিশাল রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চলছে বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের দাবি৷
তাছাড়া জনজাতিদের কল্যাণে একাধিক প্রকল্পে রাজ্য সরকারকে ঢালাও অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ অন্যদিকে তিপ্রা মথার এডিসিতে অভাব৷ খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে প্রদ্যোতের ওয়ারিয়ররা৷ ইন্দ্রপ্রস্থে বুবাগ্রার যাওয়া আসা আর সামাজিক মাধ্যমে কথার জারিজুরি৷ সব মিলিয়ে শাসকগোষ্ঠীকে সুকৌশলে চাপের রাজনীতির জালে ফাঁসিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে৷ আর এই ষড়যন্ত্রের খড়গ ঝুলছে জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার ঘাড়ে৷ একদিকে বর্মন জুজু তাড়া করছে, অন্যদিকে ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপের বিতর্ক৷ এককথায় জনজাতিদের বিকাশ করতে গিয়ে নাভিশ্বাস মন্ত্রী বিকাশের৷
জনজাতি ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ নিয়ে বিতর্ক এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে দপ্তরের তরফে কোন আধিকারিকের বিবৃতিই রাজনৈতিক দলের নেতাদের কিংবা ছাত্র সংগঠনের নেতরা মানছেন না৷ আন্দোলনের ধরণ একেকবার একেক রকম হচ্ছে৷ দপ্তর ঘেরাও হলে বিবৃতি দেন দপ্তরের অধিকর্তা৷ রাজভবন কিংবা মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে গেলে বিবৃতি দেন দপ্তরের সচিব৷ দপ্তরের তরফ থেকে দেয়া বিবৃতির সাথে রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্যের আকাশ পাতাল ফারাক৷ স্কলারশিপ নিয়ে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে অহিংস আন্দোলনের পরিবর্তে হিংস্র স্লোগন৷ রাজভবন পর্যন্ত ছুটছেন গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডের দাবিদার দলের বিধায়ক৷ জনজাতি দরদ যেন এখন উথলে পড়ছে যুগের পর যুগ জঙ্গলে পালিয়ে বেরানো ‘বাঘ বাহিনী’র প্রধানের৷
রাজনৈতিক যাতাকলে পিষছেন মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা৷ জনজাতিদের কল্যাণে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে যে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে সেই মধুর ভান্ডরে নজর রয়েছে অনেকেরই৷ দেড় ডজন একলব্য আবাসিক বিদ্যালয় নির্মাণের ক্ষেত্রে কি পরিমাণ মারিং হচ্ছে সেটা জনজাতি কল্যাণ দপ্তরে চক্কর দিয়ে আসলেই আন্দাজ করা যয়৷ দপ্তর থেকে বদলি হওয়া একাধিক আধিকারিকের নাম উঠে আসছে৷ সবমিলিয়ে গোর্খাবস্তির দপ্তরে যে ঘুঘুর বাসা সেটা সচিবালয়ের বাতানুকূল কক্ষে বসে আন্দাজ করতে পারছেন কি মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা৷
