সাব্রুমের শ্রীনগরে নেশা সামগ্রী উদ্ধার করল পুলিশ ও বিএসএফ
সাব্রুম, ২৮ জুন : শনিবার সকাল আটটায় ত্রিপুরার দক্ষিণ জেলার সীমান্তবর্তী মহকুমা সাব্রুমের অন্তর্গত শ্রীনগর এলাকার কৃষ্ণনগর ২ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গাবাড়ি অঞ্চলে এক চাঞ্চল্যকর নেশা বিরোধী অভিযান চালিয়ে বিএসএফ ও পুলিশের যৌথ দল উদ্ধার করল বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য।
অভিযানে উদ্ধার হয় ২৩১ শিশি ফেন্সিডাইল এবং আনুমানিক ১৬ কেজি গাঁজা, যার কালোবাজারি মূল্য প্রায় দেড় লক্ষ টাকা।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সাব্রুম মহকুমা পুলিশ আধিকারিক নিত্যানন্দ সরকার, মনু থানার অফিসার ইনচার্জ সঞ্জীব দেববর্মা, বিএসএফ-এর ১২১ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের করিমাটিলা বিওপির কমান্ড্যান্ট ভি কে সিং এবং সাব্রুম মহকুমা প্রশাসনের দুই ডেপুটি কালেক্টর জয়শঙ্কর দাস ও মনোজিৎ দেববর্মা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বিএসএফের ১২১ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের ডেপুটি কমান্ডেন্ট রাজি আলম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত নিদান দেবনাথ (৫৫) নিজের বসতঘরে ফেন্সিডাইল ও গাঁজা মজুত করে রেখেছিল বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তার খোঁজে চলছে তল্লাশি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শ্রীনগর সহ আশপাশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে মাদক দ্রব্যের চোরাচালান। এই পাচারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে এলাকার কিছু যুবকও, যারা নিজেদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। মাদক গ্রহণ ও পাচার কেবল ব্যক্তিগত সর্বনাশ নয়, বরং গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রের পক্ষেই এটি এক গভীর বিপদ। একদিকে যেমন এটি যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতাও বিঘ্নিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলেছেন সরকার যখন “নেশামুক্ত ত্রিপুরা” গঠনের জন্য সর্বস্তরে অভিযান চালাচ্ছে, তখন সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে এধরনের নেটওয়ার্কের সক্রিয়তা প্রশাসনের জন্য গভীর চিন্তার বিষয়। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, এই ঘটনার পর গোটা দুর্গাপাড়া এলাকাজুড়ে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। গ্রামবাসীদের মুখে মুখে একটাই প্রশ্ন—”এর শেষ কোথায়?” প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করে পুরো চক্রকে চিহ্নিত করার জন্য তদন্ত চলছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মহকুমা পুলিশ আধিকারিক নিত্যানন্দ সরকার জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনা কেবল আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, বরং এটি একটি সামাজিক মহাবিপদ। সরকারের নেশামুক্ত সমাজ গঠনের উদ্যোগকে সফল করতে শুধুমাত্র প্রশাসনের নয়, প্রয়োজন সাধারণ মানুষেরও সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সচেতনতা।
