বর্ষায় গবাদি পশুর সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে আধুনিক টিকাকরণ প্রযুক্তি নিয়ে সেমিনার আগরতলায়
আগরতলা, ১৯ জুন : বর্ষাকালে গবাদি পশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন সংক্রামক ও প্রাণঘাতী রোগ প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর টিকাকরণ ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে শুক্রবার আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে এক বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। রাজ্য সরকারের প্রাণীসম্পদ বিকাশ দফতরের সহযোগিতায় এই কর্মশালার আয়োজন করে ইন্ডিয়ান ইমিউনোলজিক্যালস লিমিটেড।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণীসম্পদ বিকাশ দফতরের সচিব দীপা ডি নায়ার। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার পশুচিকিৎসক, টিকাদান কর্মী এবং প্রাণীসম্পদ বিকাশ দফতরের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্ষার মরশুমে গবাদি পশুর মধ্যে বিভিন্ন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও প্রোটোজোয়া জনিত সংক্রামক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে রাইনোট্রাকাইটিস (আইবিআর), থাইলেরিওসিস এবং সিস্টিসারকোসিস রোগের কারণে প্রতিবছর বহু গবাদি পশু আক্রান্ত হয় এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পশুর মৃত্যু ঘটে। এর ফলে ক্ষতির মুখে পড়েন পশুপালক ও কৃষকরা।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক টিকাকরণ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, সময়মতো সঠিক টিকাদান এবং রোগ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে পশুসম্পদের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। পাশাপাশি টিকাদান কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
কর্মশালায় উপস্থিত রিসোর্স পার্সনরা আধুনিক ভ্যাকসিন প্রযুক্তি, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা এবং মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাঁরা পশুস্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মিত টিকাকরণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাইনোট্রাকাইটিস বা আইবিআর একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা গবাদি পশুর শ্বাসতন্ত্র ও প্রজননতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত করে। অন্যদিকে থাইলেরিওসিস হলো রক্তবাহিত প্রোটোজোয়া সংক্রমণ, যা পশুর শারীরিক সক্ষমতা হ্রাস করে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। সিস্টিসারকোসিস ফিতা কৃমির লার্ভা দ্বারা সৃষ্ট একটি টিস্যু সংক্রমণ, যা পশুর স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর টিকাকরণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং মাঠপর্যায়ে তার সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে গবাদি পশুর সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন পশুসম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে কৃষক ও পশুপালকদের আর্থিক ক্ষতিও কমবে।
