পরকীয়ার জেরে ভাগ্নের সাথে পালিয়ে গেলেন স্ত্রী, থানার দ্বারস্থ স্বামী
কৈলাসহর,২৮ জুন : যেখানে সম্পর্ক, সেখানে ভরসা—এই প্রবাদ বোধহয় এখন শুধুই বইয়ের পাতায় মানায়। বাস্তবে ‘কাছের সম্পর্ক’ও এখন প্রেমের রঙে রঙিন হয়ে যাচ্ছে। আর তাতেই বিপদে পড়েছেন জলাই এলাকার বাসিন্দা শংকর রবিদাস। কারণ, ভাগ্নের সাথেই পালিয়ে গেলেন তার বিবাহিতা স্ত্রী সরস্বতী রবিদাস।এমনটাই অভিযোগ খোদ স্বামীর। শংকরবাবু পেশায় একজন সিকিউরিটি গার্ড, কর্মস্থল আগরতলার আইজিএম হাসপাতাল। আর জীবনের নিরাপত্তা রেখে যখন তিনি হাসপাতালে পাহারা দেন, তখন ঘরের ভিতর দিয়ে সরে গেলেন পরিবারের নিরাপত্তা।শংকরবাবুর অভিযোগ, তার বাড়ির পাশেই থাকত এক ‘দূর সম্পর্কের ভাগ্নে’ সঞ্জয় রবিদাস। সম্পর্কটা এতই ঘনিষ্ঠ যে ভাগ্নে প্রায়ই মামির বাড়িতে চা-জলখাবার খেতে খেতে ‘দার্শনিক’ আলাপ করত। এমনকি, শংকরবাবুর অজান্তে স্ত্রী প্রায়ই মেয়েকে নিয়ে ওই ভাগ্নেকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ‘সফরে’ যেতেন।
সাম্প্রতিকতম ‘অ্যাডভেঞ্চার’ শুরু হয় গতকাল। শ্বশুরবাড়িতে অসুস্থ শাশুড়ির চিকিৎসার নাম করে স্ত্রী সরস্বতী রবিদাস চার বছরের মেয়েকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু গন্তব্য শ্বশুরবাড়ি নয়, বরং ভাগ্নের হৃদয়ের দরজা। এরপর দুজনেই মোবাইল সুইচ অফ করে দেয়—একটি নিখুঁত ‘লাভস্টোরি’-র ফাইনাল ড্রাফট!
এদিকে মেয়ের কথা ভেবে ভেঙে পড়েছেন শংকরবাবু। চোখে জল, হাতে অভিযোগপত্র, আর বুকভরা বিশ্বাসভঙ্গ—সব মিলিয়ে আজ দুপুরে তিনি হাজির হন কৈলাসহর মহিলা থানায়। অভিযোগ দায়ের করেন স্ত্রীর ‘ভাগ্নে-সহ প্রেমবিহার’-এর বিরুদ্ধে।
এই ঘটনার পর সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, “এতদিন শুনতাম পাশের বাড়ির ‘দাদা’ বা ‘জামাইবাবু’-দের দিকে সতর্ক থাকতে হয়। এখন মনে হচ্ছে ভাগ্নেদেরও রাখতে হবে সন্দেহের তালিকায়!”
জীবনের মেলোড্রামা যে কখন বাস্তবে রূপ নেয়, তা আর সিনেমার ডিরেক্টরও বুঝতে পারেন না। এখন দেখার বিষয়, এই পারিবারিক ত্রিভুজ প্রেম কাহিনিতে পুলিশ প্রশাসন কোন ‘রোল’ নেয়। মামা চান স্ত্রী ও মেয়েকে ফিরে পেতে, আর পুলিশ চাইছে ঘটনাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত। সম্পর্ক মানেই আর নিরাপত্তা নয়, এখন সেটা হতে পারে “লাভ এ্যাট ফার্স্ট মামি”!
