দিল্লীতে ‘তিপ্রাসা’ চুক্তি স্বাক্ষরিত, বিজয়োল্লাসে মেতে উঠল তিপ্রা মথার ‘যোদ্ধা’রা
আগরতলা, ২মার্চ।। বহু প্রত্যাশিত পদক্ষেপ যা ত্রিপুরার রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা করল৷ ত্রিপুরার প্রধান বিরোধী দল তথা জনজাতি ভিত্তিক আঞ্চলিক দল তিপ্রা মথা, ত্রিপুরা সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা, জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, সমবায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়ার উপস্থিতিতে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে৷ জনজাতিদের রাজনৈতিক অধিকার, ভূমির অধিকার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিচিত, সংস্কৃতি, ভাষা ইত্যাদি বিষয়গুলি নিয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে৷ চুক্তি মোতাবেক একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ বা কমিটি গঠন করা হবে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে৷
চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ত্রিপ্রা মথার প্রাক্তন সুপ্রিমো তথা ত্রিপুর উপজাতি স্বশাসিত জেলা পরিষেদর সদস্য প্রদ্যোৎ কিশোর মানিক্য দেববর্মা, ত্রিপ্রা মথার সভাপতি বিজয় কুমার রাঙ্খল, বিরোধী দলনেতা তথা তিপ্রা মথার নেতা অনিমেষ দেববর্মা, ত্রিপুরা সরকারের মুখ্যসচিব জে কে সিনহা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উত্তর পূর্বাঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এডিশন্যাল সেক্রেটারি পিযুষ গোয়েল৷
এদিকে, চুক্তি স্বাক্ষিরত হওয়ার খবর আসতেই বড়মুড়ায় হাতাই কতরে আমরণ অনশনের স্থলে জমায়েত থাকা তিপ্রা মথার কর্মী সমর্থকদের মধ্যে খুশির আবহ তৈরী হয়৷ তিপ্রা মথার প্রাক্তন সুপ্রিমো প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মা দলীয় কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি বলেছিলাম খালি হাতে ফিরব না৷ আজ একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে৷ সুতরাং উদযাপন করুন, তবে এতটা নয় যে আমরা জিতেছি৷ আমাদের আসল জয় হবে আগামীদিনে, যখন আমরা আমাদের ভূমি, সাংবিধানিক, রাজনৈতিক, ভাষা, অথনৈতিক অধিকার পুরণ করব৷ আপনাদের ভালবাসা এবং সমর্থনের জন্যই আমি সফল হয়েছিল৷’
প্রসঙ্গত, তিপ্রা মথার প্রাক্তন সুপ্রিমো প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মা বড়মুড়া পাহাড়ের তথা হাতাই কতরে আমরণ অনশনে বসেছিলেন বুধবার৷ অনশনে বসার কিছু সময় পরই দিল্লী থেকে ফোনকল আসে যে তাঁকে দিল্লী যেতে হয়৷ সেখানে যাওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় জরুরী ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা, মন্ত্রী বিধায়ক সহ তিপ্রা মথার নেতাদের দিল্লীতে তলব করা হয়৷ শনিবার দিল্লীতে তিপ্রা মথা, ত্রিপুরা সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে ‘তিপ্রাসা’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়৷ এখন ত্রিপুরার জনজাতিদের জন্য ‘তিপ্রাসা’ চুক্তি কী ধারণ করে এবং এটি রাজ্যের রাজনীতিতে কী নতুন মাত্রা নিয়ে আসে তা দেখার বিষয় বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷
