iframe id='adg_footer_pixel_script' src="//adgebra.co.in/afpf/afpf?p1=3496&p2=0&p3=1&p4=&p5=" width="0" height="0"frameBorder="0" scrolling="no" marginheight="0" marginwidth="0"/iframe
Tripura

কাদায় মাখামাখি, গর্তে ভরা পথ প্রতিদিনই মানুষকে উপহার দিচ্ছে নরক যন্ত্রণা

সাব্রুম, ২৭ জুন : দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার পার্বত্য এলাকা বৈষ্ণবপুর থেকে বনরাইবাড়ি – একদা যেই পথ ছিল সাধারণ মানুষের যাতায়াত, বাজারে ফলমূল নিয়ে যাওয়া কিংবা রোগী পরিবহণের একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ, আজ তা পরিণত হয়েছে ধুলোময়, কর্দমাক্ত, ভাঙাচোরা এক দুঃসহ যন্ত্রণায়।

উন্নয়ন হচ্ছে, ওএনজিসি কাজ করছে, প্রকল্প এগুচ্ছে। কিন্তু এই উন্নয়নের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ওএনজিসি এর বিশাল আকারের লোডার ট্রাকগুলি প্রতিনিয়ত চলাচল করে এই পাহাড়ি রাস্তাটিকে ব্যবহারের অযোগ্য করে তুলেছে।

স্থানীয়দের কথায় ওএনজিসি আসার পর এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় ছিল। এলাকাবাসী একাধিকবার পথ অবরোধ করেছেন। ফলস্বরূপ কিছু সময়ের জন্য রাস্তায় সামান্য সংস্কারের কাজও হয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থা বাহবা কুড়িয়ে নেয় ‘জনদরদী’ পরিচয়ে। কিন্তু বাস্তব হল—বর্ষা আসার আগেই আবারও রাস্তাটির হাল তথৈবচ। কাদায় মাখামাখি, গর্তে ভরা পথ যেন প্রতিদিনই মানুষকে নরক যন্ত্রণা উপহার দিচ্ছে।

স্থানীয় জুমচাষিদের অভিযোগ, “আমরা পাহাড় থেকে শাকসবজি, ফলমূল বাজারে আনতে পারি না ঠিকমত। গাড়ি ফেঁসে যায় কাদায়।” রোগী পরিবহণেও সমস্যা। ৮ কিলোমিটারের দূরত্ব অতিক্রম সময় লাগে এক ঘণ্টা। অগ্নিনির্বাপক বাহিনী, পুলিশ বা বিএসএফের জরুরি গাড়িগুলির চলাচলও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বৈষ্ণবপুর বনরাইবাড়ি সহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জনপ্রতিনিধিরা শুধু নির্বাচনের সময় আসেন প্রতিশ্রুতি নিয়ে। এখন রাস্তায় হাঁটতে গেলেই জুতো খুলে কাদা সাফ করতে হয়, অথচ কারো টনক নড়ে না।”

এলাকাবাসীর অভিমত, প্রশাসন যেন দেখেও না দেখার ভান করছে। মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে যেন তারা কুম্ভনিদ্রায় আচ্ছন্ন। স্থানীয়দের হুঁশিয়ারি—যদি দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না করা হয়, প্রশাসন যদি ওএনজিসি-কে বাধ্য না করে রাস্তাটি সঠিকভাবে পুনর্নির্মাণে, তাহলে এলাকাবাসী আবারও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামবে।

উন্নয়নের ছায়ায় লুকিয়ে থাকা এই অবহেলার চিত্র আজ শুধুমাত্র বৈষ্ণবপুর বা বনরাইবাড়ির নয়, বরং তৎসঙ্গে এলাকার মনোরঞ্জন পাড়ার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক গভীর বাস্তবতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *