টিটিএএডিসিতে লুটপাটের অভিযোগ, আন্দোলন জোরদারের সিদ্ধান্ত গণমুক্তি পরিষদের
আগরতলা, ৩১ জানুয়ারি : ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি আগরতলার টাউনহলে অনুষ্ঠিত হল ত্রিপুরা রাজ্য উপজাতি গণমুক্তি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলন। সম্মেলন উপলক্ষ্যে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধির উপস্থিতিকে আশার আলো হিসেবে দেখছেন সংগঠনের নেতৃত্ব।
সম্মেলন শেষে শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে মিলিত হন সংগঠনের নবগঠিত কমিটির সভাপতি নরেশ জমাতিয়া, সাধারণ সম্পাদক রাধাচরণ দেববর্মা ও প্রণব দেববর্মা। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আদিবাসী অধিকার রাষ্ট্রীয় মঞ্চের সর্বভারতীয় নেতৃত্ব—জিতেন্দ্র চৌধুরী, বৃন্দা কারাত ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। তাঁরা সম্মেলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে বক্তব্য রাখেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে রাধাচরণ দেববর্মা জানান, ২৫ জনের কর্মপরিষদে ৬ জন নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং ১৩৯ জনের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
টিটিএএডিসি নির্বাচনের প্রসঙ্গে রাধাচরণ দেববর্মা স্পষ্ট করে বলেন, “এই নির্বাচনে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াই হবে।” বিজেপি-এর ২৮ আসন জয়ের দাবি নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বিজেপি ও মথার লড়াই আদতে লুটপাটের লড়াই। টিটিএডিসিতে বর্তমানে লুটের বাণিজ্য চলছে, কাজ নেই, রোজগারের সুযোগ নেই। বাম আমলে গড়ে ওঠা সম্পদ আজ বিক্রি বা বন্ধক দিয়ে লুটপাট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাধাচরণ দেববর্মা অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা খুমুলুঙয়ে গিয়ে কোনও পর্যালোচনা বৈঠক করেননি, এমনকি প্রতিনিধি পাঠিয়েও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়নি। সম্মেলনে ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিজেপি-এর বিরুদ্ধে বিশ্বাস ও মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেন রাধাচরণ দেববর্মা। ককবরক ভাষার রোমান স্ক্রিপ্টসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও তিনি আলোকপাত করেন। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন—“ইডির ভয়ে কি আপোস করা হচ্ছে?”
নরেশ জমাতিয়া বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে ‘নয়া ফ্যাসিবাদী সরকার’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “বিপন্ন ভারতবর্ষকে রক্ষা করতে বিজেপিকে পরাস্ত করতেই হবে।” তিনি বিজেপি ও মথা—উভয়ের বিরুদ্ধেই লড়াইয়ের ডাক দেন এবং সন্ত্রাসবাদীদের মদত দেওয়ার অভিযোগও তোলেন, যার ব্যাখ্যাও তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে দেন।
