কেন্দ্রীয় বাজেটে এমএসএমই ও পর্যটনে জোর, উপকৃত হবে ত্রিপুরা- আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা
আগরতলা, ২ ফেব্রুয়ারি : রবিবার সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। এই বাজেটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ ও আলোচনা। বিজেপি-এর পক্ষ থেকে এই বাজেটকে ভবিষ্যৎ ভারত গড়ার একটি দূরদর্শী রূপরেখা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
বাজেট পেশের পর সোমবার বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানান। ত্রিপুরায়ও এদিন বিজেপি রাজ্য দফতরে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। বাজেট প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই কেন্দ্রীয় বাজেট ত্রিপুরার জন্য অত্যন্ত খুশির বিষয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অরুণাচল প্রদেশ, মনিপুর, সিকিম, অসম ও ত্রিপুরাকে কেন্দ্র করে বুদ্ধ তীর্থস্থানগুলিকে সংযুক্ত করে ই-বাস পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে পর্যটনের প্রসার ঘটবে বলে তিনি আশাবাদী। সাউথ ইস্ট এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বুদ্ধ ধর্মাবলম্বী পর্যটকরা ত্রিপুরায় আসবেন এবং রাজ্য সহ সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এই কেন্দ্রীয় বাজেটে তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা, যার মূল লক্ষ্য প্রান্তিক মানুষের উন্নয়ন। দ্বিতীয়ত, মানুষের ক্ষমতায়নের জন্য পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং তৃতীয়ত, ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে সর্বাঙ্গীণ উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
তিনি জানান, বাজেটে ছয়টি বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরনো শিল্পগুলির পুনরুদ্ধার এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প অর্থাৎ এমএসএমই সেক্টরকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই খাতে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর আশা, এই বাজেট বাস্তবায়িত হলে ত্রিপুরার এমএসএমই সেক্টরের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে এবং রাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
