জীবনশৈলী উন্নত হলে প্রফেশনাল স্কিলও বাড়ে : মুখ্যমন্ত্রী
আগরতলা, ৬ ফেব্রুয়ারি : জীবনশৈলী ভালো হলে প্রফেশনাল স্কিলও উন্নত হয়—এমনটাই মত ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার। শুক্রবার রাজধানী আগরতলায় টাউন বড়দোয়ালী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ অনুষ্ঠানের সম্প্রচার আয়োজনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।
পরীক্ষার মরসুমকে সামনে রেখে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ কর্মসূচির সূচনা করেন। পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানো, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ কেরিয়ার সম্পর্কে দিশা দেখানোর উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি এ বছর নবম বর্ষে পদার্পণ করল।
শুক্রবার বড়দোয়ালী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিধায়ক তথা মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা অংশগ্রহণ করেন। সকলে একত্রে প্রধানমন্ত্রীর ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ অনুষ্ঠানটি শোনেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মনীষীর জীবনী পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট থাকলেই মানুষ শিক্ষিত হয় না—এই বার্তাই প্রধানমন্ত্রী দিতে চেয়েছেন বলে মত মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের আর কোনও রাষ্ট্রনায়ক ‘মন কি বাত’ বা ‘পরীক্ষা পে চর্চা’র মতো কর্মসূচি আয়োজন করেননি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা এলেই অনেক পরিবারে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতি এড়াতে প্রধানমন্ত্রী অভিভাবকদের সন্তানদের মধ্যে তুলনা না করার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রত্যেক মানুষ আলাদা—এই বিষয়টি মাথায় রাখার উপর জোর দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী পরীক্ষার্থীদের লাইফ স্কিল ও প্রফেশনাল স্কিলের উপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত মত অনুযায়ী, জীবনশৈলী ভালো হলে প্রফেশনাল দক্ষতাও স্বাভাবিকভাবেই উন্নত হয়। এই বিষয়গুলি পাঠ্যসূচির বাইরের হলেও জীবনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
এদিকে, দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার এক ছাত্র অংশগ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে মাতা ত্রিপুরেশ্বরীর একটি ছবি তুলে দেয়। এই উপহার পেয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আনন্দিত হন। বিষয়টিকে রাজ্যবাসীর গর্ব বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, এদিন রাজ্যের ২২৭৮টি স্থানে ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
