স্বচ্ছ ভারত অভিযানে জামজুড়ি বাজারে ২১০ ব্যবসায়ীর মধ্যে ডাস্টবিন বিতরণ
উদয়পুর, ১ ফেব্রুয়ারি : “স্বচ্ছতাই সেবা, স্বচ্ছতাই ধর্ম”—এই মন্ত্রকে সামনে রেখে গোমতী জেলার কাকড়াবন আর.ডি. ব্লকের অন্তর্গত জামজুড়ি পঞ্চায়েত এলাকায় জনস্বার্থমূলক স্বচ্ছতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। স্বচ্ছ ভারত অভিযানকে আরও গতিশীল করে তুলতে কাকড়াবন আর.ডি. ব্লক ও কাকড়াবন সি.এল.এফ-এর যৌথ উদ্যোগে রবিবার জামজুড়ি বাজার এলাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ডাস্টবিন বিতরণ করা হয়।
এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল বাজার এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা, যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার প্রবণতা রোধ করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বচ্ছতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এদিন জামজুড়ি বাজার এলাকার মোট ২১০ জন ব্যবসায়ীর হাতে ডাস্টবিন তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাজার এলাকার ময়লা দ্রুত সংগ্রহ ও অপসারণের সুবিধার্থে দুটি মিনি আবর্জনা বহনকারী গাড়িও প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোমতী জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়, কাকড়াবন আর.ডি. ব্লকের বিডিও অলিন্দ্য দত্ত মজুমদার, জামজুড়ি পঞ্চায়েতের প্রধান নির্মল দাস সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি, কাকড়াবন সি.এল.এফ-এর সদস্য-সদস্যারা এবং স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গোমতী জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায় বলেন, বাজার এলাকায় যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার প্রবণতা বন্ধ করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, প্রয়োজন সচেতনতা ও উপযুক্ত পরিকাঠামো। সেই লক্ষ্যেই প্রতিটি ব্যবসায়ীর হাতে ডাস্টবিন তুলে দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, বরং সমাজের প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, দোকান সংলগ্ন এলাকা পরিষ্কার রাখা গেলে বাজারের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নতিতেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বাজারের ব্যবসায়ীরাও সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, ডাস্টবিন পাওয়ার ফলে দোকানের সামনে আর ময়লা জমবে না, পরিষ্কার পরিবেশে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়বে এবং বাজারের সামগ্রিক ভাবমূর্তিও আরও উন্নত হবে। এতে স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও সকলেই উপকৃত হবেন বলে মত প্রকাশ করেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, স্বচ্ছ ভারত অভিযানের আওতায় এ ধরনের নিয়মিত সচেতনতামূলক ও পরিকাঠামো উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে গ্রামীণ ও বাজার এলাকায় দীর্ঘমেয়াদে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
