যাত্রাপুরে ইটভাটায় ঝুলন্ত অবস্থায় মহিলা শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার
সোনামুড়া, ৫ ফেব্রুয়ারি : সিপাহীজলা জেলার যাত্রাপুর থানাধীন কালীখলা টিটিএএডিসি ভিলেজে একটি ইটভাটায় মহিলা শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে ইটভাটার আবাসিক ঘর থেকে ওই মহিলা শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়।
মৃত মহিলা শ্রমিকের নাম স্বপ্না টিক্কা (২২)। তিনি স্বামী জগন্নাথ কুজূর (২৪)-এর সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের রাঁচি থেকে এসে ওই ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাঁরা দু’জনেই রাঁচির শ্রমিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ঘটনাস্থল কালীখলা টিটিএএডিসি ভিলেজের বি.এম.আই. নামক ইটভাটা। ইটভাটার ম্যানেজার সঞ্জয় নাহা জানান, ভোরে কাজ শুরুর সময় অন্য শ্রমিকরা কাজে বেরোলেও স্বপ্না টিক্কাকে দেখা যায়নি। পরে সহকর্মী মহিলা শ্রমিকরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, তিনি নিজের ঘরের ভেতরে দরজা বন্ধ করে ফাঁসিতে ঝুলছেন। কাঠের দরজাটি বাইরে থেকে ভেঙে ঘরে প্রবেশ করতে হয়।
ঘরে ঢুকে দেখা যায়, সাদা রঙের নাইলনের দড়ি দিয়ে ঘরের চালের লোহার রডে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছেন স্বপ্না টিক্কা। এই দৃশ্য দেখে অন্যান্য শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে আসে। একাংশ মহিলা শ্রমিক কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ইটভাটার ম্যানেজার ও মালিকপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে যাত্রাপুর থানায় বিষয়টি জানান। ইটভাটার মালিক হিসেবে এমডি কামাল হোসেন, রাজেশ দেবনাথ ও নজরুল ইসলামের নাম জানা গেছে। ওই ইটভাটায় মোট ৮৫ জন শ্রমিক কাজ করেন, যার মধ্যে রাঁচি থেকে আসা নারী-পুরুষ শ্রমিকের সংখ্যা ৫২ জন।
খবর পেয়ে সকাল আনুমানিক আটটা নাগাদ যাত্রাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পরে মৃতদেহ উদ্ধার করে ডোমের মাধ্যমে গাড়িতে করে কাঁঠালিয়া সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে যাত্রাপুর থানা এলাকায় একের পর এক অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। এই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
