জেল হাজতে বিচারাধীন বন্দীর মৃত্যু ঘিরে এনসিসি থানায় এলাকাবাসীর বিক্ষোভ
আগরতলা, ২৯ জুন : জেল হাজতে বিচারাধীন বন্দীর মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনা এনসিসি থানাধীন গোয়ালা বস্তি এলাকায়। উত্তেজিত এলাকাবাসী ঘটনার সঠিক তদন্ত ও সুবিচারের দাবিতে এনসিসি থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সংশ্লিষ্ট ঘটনার সঠিক তদন্তের আশ্বাস দেন এনসিসি থানার এসডিপিও সুব্রত বর্মন।
সম্প্রতি মদন দেববর্মা নামে এক ব্যক্তি গোয়ালাবস্তি সংলগ্ন এলাকার কিছু অংশ তার বলে আদালতে মামলা করেন। এই মামলায় আদালত থেকে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়। আদালতের কর্মীরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে সমনের কাগজ পৌঁছে দিতে গেলে গোয়ালা বস্তি এলাকার বাসিন্দা কৈলাশ রায় এবং তাঁর পুত্র পলাশ রায়ের সমনের কাগজ ছিঁড়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে এনসিসি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নিয়ে ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে এনসিসি থানার পুলিশ গত ১৬ জুন কৈলাশ রায় নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করে। আদালত ধৃত অভিযুক্ত কৈলাশ রায়কে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠায়। পুলিশ রিমান্ড শেষে পুনরায় কৈলাশ রায়কে আদালত থেকে জেলহাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। জেল হাজতে থাকাকালীন অবস্থায় রবিবার সকালে খবর আসে বিচারাধীন বন্দী কৈলাশ রায়ের মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোয়ালা বস্তি এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। এলাকাবাসী সংঘবদ্ধভাবে এনসিসি থানা ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানায়।
এই প্রসঙ্গে মৃত কৈলাশ রায়ের ছেলে পলাশ রায় জানান, তাঁর বাবাকে সুস্থ, স্বাভাবিক এবং জীবন্ত অবস্থায় পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। এখন জীবিত অবস্থায় ফিরে পেতে চান তিনি।
সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নিয়ে এনসিসি থানার এসডিপিও সুব্রত বর্মন জানান, বিশালগড়ের কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে থাকাকালীন মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কৈলাশ রায়ের কিছু শারীরিক সমস্যা ছিল। বুকে সামান্য ব্যথাও ছিল। এই অবস্থায় জেল থেকে তাকে বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জিবি হাসপাতালের মর্গে আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ হাসপাতাল থেকে পরিজনদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, এলাকাবাসী কৈলাশ রায়কে নির্দোষ বলে দাবি করছেন। কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে কি অভিযোগ ছিল সংশ্লিষ্ট সব বিষয়গুলি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান এসডিপিও।
