সম্পত্তির জন্য ছেলের মামলায় আদালতে হাজির বৃদ্ধ মা
শান্তিরবাজার, ৩০ আগস্ট : হায়রে সন্তান, শেষ পর্যন্ত সম্পত্তির লোভে ৯০ বছরের মাকে আদালত পর্যন্ত যেতে হল। মৃত্যু যাকে হাতছানি দিচ্ছে, সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না যিনি, তাঁকে আসতে হল বিলোনিয়া আদালতে।
যে মা ১০ মাস গর্ভে ধারণ করে অনেক কষ্ট, জ্বালা যন্ত্রণা সহ্য করে সন্তান জন্ম দিয়ে কোলেপিঠে আদর যত্নে বড় করে তুলল সেই ছেলে নাকি আজ সম্পত্তির জন্য গর্ভধারিনী মায়ের বিরুদ্ধে করলেন মামলা। সামাজিক অবক্ষয় আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়াল এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে চারিদিকে।
ঘটনা দক্ষিণ জেলার শান্তিরবাজারে। ৯০ বছরের বৃদ্ধ মায়ের নাম উর্মিলা পাটারী। দুই ছেলে এবং চার মেয়ে মিলে ছয় সন্তানের জননী। বাড়ি শান্তিরবাজার বাজার সংলগ্ন এলাকায়। বৃদ্ধ মা উর্মিলা পাটারী জানান, ১৪ বছর আগে স্বামী মারা যায়। তারপর নিজেই একা চলতে শুরু করেন। একই বাড়িতে থাকেন বড় ছেলে শংকর পাটারী এবং ছোট ছেলে সমর পাটারী। একরাশ আশা ও আনন্দে ভগবানের নামে শংকর নাম রেখেছিলেন বড় ছেলের।
স্বামীর মৃত্যুর পর উর্মিলা পাটারী নিজের ভরণপোষণের জন্য বাড়ির সামনে থাকা দোকান বিশ্বাস করে বড় ছেলেকে ভাড়া দিতে বলেন। যেখান থেকে প্রাপ্ত অর্থে তিনি নিজের বাদবাকি জীবন কাটিয়ে দেবেন। আর এই সুযোগ বুঝে বড় ছেলে মায়ের আঙ্গুলের টিপসই নিয়ে সে জায়গা নিজের নামে করে ফেলে। কিছুদিন পর ভাড়া চাইতে গেলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে। তখনই জানতে পারেন যে তাঁর জায়গা ঘর তাঁর নামে নেই। প্রতারণা করে বড় ছেলে নিজের নামে তাঁর কাগজপত্র তৈরি করে নিয়েছেন।
তারপর সালিসি সভায় কাগজপত্র সংশোধন করে আবার সেই সম্পত্তি ফিরে পায় বৃদ্ধ মা উর্মিলা পাটারী। মাকে দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করে ছোট ছেলে সমর পাটারী এবং ছোট মেয়ে তন্দ্রা পাটারী। আর এতেই সহ্য হচ্ছিল না বড় ছেলে শংকরের। অবশেষে পুনরায় সম্পত্তির লোভে সে তার বৃদ্ধা মা সহ ভাই ও ভাইয়ের ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। আর সেই মামলার কারণে শনিবার হুইল চেয়ারে করে আদালতে আসতে হয়েছে ৯০ বছরের বৃদ্ধ মা উর্মিলা পাটারীকে।
