ভেন্ডার লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও উচ্ছেদ, আগরতলায় সর্বস্বান্ত শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী
আগরতলা, ৪ ফেব্রুয়ারি : খুব চটজলদি শুরু হল আগরতলা পৌর নিগমের উচ্ছেদ অভিযান। এই অভিযানে দোকানঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভেঙে পড়ল বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর বেঁচে থাকার স্বপ্নও। বুধবার সরকার ও পুর নিগমের পক্ষ থেকে প্রদত্ত ভেন্ডার লাইসেন্স হাতে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকরা এমনই অভিযোগ করেন।
জানা গেছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি ফুটপাত ও রাস্তার অংশ দখলমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাত্র দু’দিনের মধ্যেই বুধবার ভোররাত থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে আগরতলা পুর নিগম। বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে ফেলা হয় ফুটপাত ও রাস্তার ওপর থাকা একাধিক দোকানপাট। রাজধানীর বটতলা, পোস্ট অফিস চৌমুহনী এবং শকুন্তলা রোড এলাকায় পর্যায়ক্রমে এই অভিযান চালানো হয়।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, যেসব দোকানঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের অনেকের কাছেই সরকার ও পুর নিগম প্রশাসনের দেওয়া বৈধ ভেন্ডার লাইসেন্স রয়েছে। এদিন সব হারিয়ে সেই লাইসেন্স হাতে নিয়েই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা একত্রিত হন। তাঁরা জানান, ছোটখাটো ব্যবসা করেই পরিবার-পরিজনদের নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছিলেন। হঠাৎ এই অভিযানে তাঁরা কার্যত সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন।
বটতলার এক ফল বিক্রেতা জানান, হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযানের ফলে তাঁর প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকার ফল নষ্ট হয়ে গেছে। হাতে ভেন্ডার লাইসেন্স থাকলেও ভবিষ্যতে কী করবেন, তা ভেবে উঠতে পারছেন না তিনি।
একইভাবে, ভেন্ডার লাইসেন্স হাতে নিয়ে বটতলার এক মহিলা চা বিক্রেতা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতের এক কোণে চায়ের দোকান চালিয়ে সংসার চলত তাঁর। বুধবার সবকিছু ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সংসার কীভাবে চলবে—এই প্রশ্নের উত্তরে চোখের জল ধরে রেখে তিনি বলেন, কিছুই বুঝতে পারছেন না, শুধু চান সবার ভালো হোক।
এদিন আগরতলা পুর নিগমের দুই পর্যায়ের উচ্ছেদ অভিযানে ঠিক কতজন হকার বা দোকানপাট উচ্ছেদ হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশাসনের তরফে কোনও নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি। তবে জানা গেছে, বটতলা থেকে পোস্ট অফিস চৌমুহনী ও শকুন্তলা রোড এলাকায় ফুটপাত ও রাস্তায় থাকা প্রায় ৬০০-র মতো দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে হকারদের মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক কয়েক কোটি টাকা বলে দাবি।
ভেন্ডার লাইসেন্স থাকার পরও এই ধরনের উচ্ছেদের মুখে পড়তে হবে—এমনটা হকাররা কল্পনাও করেননি বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভেন্ডার লাইসেন্স প্রদান ও তার কার্যকারিতা নিয়েও বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
